রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সংসদে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট সংশোধন বিল- ২০২৬ পাস

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: এপ্রিল ৯, ২০২৬, ০১:২৮ পিএম

সংসদে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট সংশোধন বিল- ২০২৬ পাস

ছবিঃ সংগৃহীত

সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে জাতীয় সংসদে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে। এ সংশোধনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের পুরনো আইনকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন করে তা পাসের জন্য উপস্থাপন করা হয়। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি গৃহীত হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন আইনের মাধ্যমে সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা, দক্ষতা এবং নৈতিকতা আরও জোরদার হবে।

নতুন সংশোধনীতে সরকারি ক্রয়ের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগের আইনে যেখানে মূলত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর জোর ছিল, সেখানে এখন গুণগত মান, দক্ষতা, টেকসই উন্নয়ন এবং সর্বোত্তম মূল্য নিশ্চিত করার বিষয় যুক্ত করা হয়েছে।

প্রথমবারের মতো আইনে ‘টেকসই সরকারি ক্রয়’ ধারণা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে পরিবেশ সুরক্ষা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে।

নতুন বিধান অনুযায়ী, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় এমন কোনো শর্ত রাখা যাবে না, যা পরিবেশের ক্ষতি করে বা শ্রমিকদের অধিকার লঙ্ঘন করে। এর মধ্যে মজুরি, সামাজিক নিরাপত্তা এবং শিশুশ্রম নিষিদ্ধকরণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত।

প্রযুক্তিগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে ‘রিভার্স নিলাম’ পদ্ধতি চালুর সুযোগ রাখা হয়েছে, যেখানে সরবরাহকারীরা কম দামে প্রতিযোগিতা করে চুক্তি পাওয়ার সুযোগ পাবে। এতে সরকারি ব্যয় কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়া, সব ধরনের সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে ইলেকট্রনিক পদ্ধতি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ব্যতিক্রম থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে।

নতুন আইনে প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে সরকারি ক্রয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা আরও সুসংহত করা হয়েছে। পাশাপাশি ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তির মাধ্যমে একাধিক সংস্থা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য একই সরবরাহকারীর কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ করতে পারবে।

বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশনগুলোতেও আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে ক্রয় কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ রাখা হয়েছে, তবে এ ক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

দেশীয় তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে সুরক্ষা দিতে আন্তর্জাতিক দরপত্রে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানকে অংশীদার করার বিধান রাখা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, পুরোনো আইনের সীমাবদ্ধতা দূর করে আধুনিক, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক ক্রয় ব্যবস্থা গড়ে তুলতেই এই সংশোধন আনা হয়েছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!