রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পুলিশের চেইন অব কমান্ড ভাঙলে ক’ঠোর ব্যবস্থা-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ১১, ২০২৬, ১২:৪০ পিএম

পুলিশের চেইন অব কমান্ড  ভাঙলে ক’ঠোর ব্যবস্থা-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে বডি ওর্ন ক্যামেরার ব্যবহার আরও ব্যাপকভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। একই সঙ্গে পুলিশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় চেইন অব কমান্ড ভঙ্গ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

সোমবার পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পুলিশ প্রশাসনের আধুনিকায়ন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ বাহিনীর কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এজন্য প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত করা হবে। তিনি জানান, ইতোমধ্যে কিছু ইউনিটে বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার শুরু হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এটি পর্যায়ক্রমে সব পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং বিভিন্ন অপারেশনাল কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনার জন্য ক্যামেরার ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এতে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম সরাসরি রেকর্ড থাকবে, যা তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

মন্ত্রী বলেন, “আমরা চাই পুলিশের প্রতিটি কার্যক্রম স্বচ্ছ হোক। তদন্ত হোক কিংবা অপারেশন—সবকিছুই যেন প্রমাণসহ নথিভুক্ত থাকে। এতে জনআস্থা আরও বাড়বে।”

চেইন অব কমান্ড ভাঙার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীর শৃঙ্খলা কোনোভাবেই দুর্বল করা যাবে না। কোনো সদস্য যদি শৃঙ্খলাভঙ্গ করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকার দুর্নীতির বিষয়ে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করছে। পুলিশ বাহিনীর ভেতরে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। বাহিনীর ভাবমূর্তি রক্ষায় প্রতিটি সদস্যকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বাহিনীর শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না। পুলিশের প্রতিটি পদক্ষেপ এমন হতে হবে যাতে জনগণের আস্থা আরও দৃঢ় হয়।”

তিনি মানবাধিকার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে মানবাধিকার রক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অপরাধ দমন, তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা কিংবা প্রসিকিউশন টিমকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে।

তিনি জানান, জাতিসংঘের নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ সদস্যদের ন্যূনতম বলপ্রয়োগ এবং মানবাধিকারসম্মত আচরণ বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আধুনিক পুলিশিং ব্যবস্থায় প্রযুক্তির পাশাপাশি নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি মানবাধিকারের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। এতে করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি জনগণের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।

অনুষ্ঠানে পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়ন, প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নয়নের বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে পুলিশ বাহিনী আরও দক্ষ, প্রযুক্তিনির্ভর এবং জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!