রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

উচ্চশিক্ষায় বৈশ্বিক সুযোগ বাড়াতে জোর দিচ্ছে সরকার

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ১১, ২০২৬, ০১:০৪ পিএম

উচ্চশিক্ষায় বৈশ্বিক সুযোগ বাড়াতে জোর দিচ্ছে সরকার

ছবি: সংগৃহীত

দেশে উচ্চশিক্ষা খাতে নতুন আরও বিশ্ববিদ্যালয় যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে মোট ১১৬টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে এবং এর বাইরে আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। এর মধ্যে অন্তত ৫৭টি বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে শিক্ষার মানোন্নয়নে ভালো ভূমিকা রাখছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সোমবার (১১ মে) রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে আয়োজিত পাকিস্তান-বাংলাদেশ জ্ঞান বিনিময় করিডর উদ্বোধন এবং শিক্ষা প্রদর্শনী ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দুই দেশের শিক্ষাব্যবস্থা, উচ্চশিক্ষা সুযোগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জ্ঞান ও শিক্ষা বিনিময় বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি। তিনি বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে শিক্ষা ও জ্ঞান বিনিময়ের উদ্যোগকে তিনি ইতিবাচকভাবে দেখছেন এবং এ ধরনের উদ্যোগ দুই দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষা মেলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে ধারণা পাবে এবং তাদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে। এতে করে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা আরও সক্ষম হয়ে উঠবে।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করবে। তিনি বলেন, পাকিস্তানের কিছু বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে যেগুলো উচ্চমানের শিক্ষা প্রদান করে থাকে এবং সেখানে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার সুযোগ নিতে পারে।

তিনি শিক্ষার্থীদের এ ধরনের আন্তর্জাতিক সুযোগ গ্রহণে উৎসাহিত করেন এবং বলেন, শিক্ষা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে গবেষণা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই আমাদের শিক্ষার্থীরা বিশ্বমানের শিক্ষা গ্রহণ করুক এবং বৈশ্বিক জ্ঞানভিত্তিক সমাজে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করুক।”

তিনি জানান, আন্তর্জাতিক শিক্ষা সহযোগিতার অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্কলারশিপ ও উচ্চশিক্ষা কর্মসূচি চালু রয়েছে। বিশেষ করে আল্লামা ইকবাল স্কলারশিপের মতো উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত ইমরান হায়দার বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিক্ষা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। রাজশাহী, রংপুর, সিলেট ও চট্টগ্রামে এ আয়োজন করা হবে, যেখানে দুই দেশের শিক্ষাব্যবস্থা, গবেষণা এবং সংস্কৃতির আদান-প্রদান তুলে ধরা হবে।

তিনি বলেন, এই ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ভবিষ্যতে একটি সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে পাকিস্তানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা হবে। এতে শিক্ষার্থী বিনিময়, গবেষণা সহযোগিতা এবং যৌথ শিক্ষা কার্যক্রমের সুযোগ তৈরি হবে।

শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিনিময় কর্মসূচি দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার জন্য নিজেদের আরও দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!