প্রকাশিত: মে ১৩, ২০২৬, ০২:৩৮ পিএম
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও জটিলতার পর ২৭তম বিসিএস পরীক্ষায় বঞ্চিত আরও ৯৬ জন প্রার্থীকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বুধবার (১৩ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
সরকারি কর্ম কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন এই নিয়োগ কার্যকর করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, নিয়োগপ্রাপ্তদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগের দপ্তরে যোগদান করতে হবে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১৮ মে’র মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগদান সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী চাকরিতে যোগদানে অনিচ্ছুক বলে গণ্য হবেন এবং তার নিয়োগপত্র বাতিল হয়ে যাবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও জানানো হয়, নিয়োগপ্রাপ্তদের জ্যেষ্ঠতা সংরক্ষণের জন্য তাদের নিয়োগ কার্যক্রমকে পূর্ববর্তী মূল নিয়োগ প্রজ্ঞাপনের তারিখ থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য করা হবে। অর্থাৎ ব্যাচভিত্তিক প্রথম নিয়োগের সময় থেকেই তাদের ধারণাগত জ্যেষ্ঠতা বজায় থাকবে। তবে এই সিদ্ধান্তের কারণে কোনো ধরনের বকেয়া আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হবে না।
উল্লেখ্য, ২৭তম বিসিএস ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে আইনি জটিলতা চলছিল। ২০০৭ সালে প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর বিপুল সংখ্যক প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। পরে ওই ফলাফল বাতিলকে কেন্দ্র করে মামলা-মোকদ্দমা শুরু হয় এবং বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।
পরবর্তীতে দ্বিতীয় মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে আলাদা ফলাফল প্রকাশ করে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে প্রথম দফায় উত্তীর্ণদের একটি অংশ এই প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হন। দীর্ঘ শুনানি ও একাধিক রায়ের পর বিষয়টি পুনর্বিবেচনার সুযোগ পায় এবং পরে আদালতের নির্দেশনায় নিয়োগ বঞ্চিতদের একটি অংশ পুনরায় চাকরিতে ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় আগের ধাপে ৬০০-এর বেশি প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক যাচাই-বাছাই শেষে আরও বঞ্চিত প্রার্থীদের নিয়োগের পথ উন্মুক্ত হয়। তারই অংশ হিসেবে এবার অতিরিক্ত ৯৬ জন প্রার্থী সরকারি চাকরিতে যুক্ত হচ্ছেন।
প্রশাসন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় প্রার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। একই সঙ্গে এটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সমাপ্তি হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
নতুন নিয়োগ পাওয়া প্রার্থীরা এখন সরকারি প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্যাডারে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কাজে যুক্ত হবেন।



