রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পে-স্কেল নিয়ে আসছে বড় সুখবর

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ১৮, ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম

পে-স্কেল নিয়ে আসছে বড় সুখবর

প্রতীকী ছবি

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী জুলাই মাস থেকেই এই নতুন কাঠামোর কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো সম্পূর্ণ বাস্তবায়নে প্রায় এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে। একই সঙ্গে পেনশনভোগীদের সুবিধা বৃদ্ধির জন্য আরও প্রায় পঁচিশ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের প্রয়োজন হতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রস্তুতি সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। ওই বৈঠকে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন শুরু হবে আগামী অর্থবছরের প্রথম দিন থেকেই। তবে পুরো কাঠামো একসঙ্গে কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে, যাতে অর্থনৈতিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে বর্ধিত মূল বেতনের একটি অংশ কার্যকর করা হবে। পরবর্তী অর্থবছরে বাকি অংশ যুক্ত করা হবে এবং শেষ ধাপে বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা সমন্বয় করা হবে। এই পুরো প্রক্রিয়া কয়েক বছরের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিকভাবে আগামী অর্থবছরে বর্ধিত বেতনের অর্ধেক কার্যকর করার জন্য বাজেটে তিন লাখ কোটি টাকারও বেশি অর্থ সংস্থান রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। চলমান অর্থবছরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ প্রায় পঁচাশি হাজার কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের মাধ্যমে একদিকে যেমন মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানো যাবে, অন্যদিকে সরকারের অর্থ ব্যবস্থাপনাও তুলনামূলকভাবে সহজ হবে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বেতন কাঠামো সংশোধন দীর্ঘদিনের দাবি হলেও এর বাস্তবায়ন সবসময়ই বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। বিশেষ করে বিপুল সংখ্যক সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীর কারণে এই ব্যয় সরকারী বাজেটে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।

এর আগে একটি বেতন কমিশন সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন কাঠামো তৈরির সুপারিশ করে। ওই সুপারিশে গ্রেডভিত্তিক বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়। সর্বনিম্ন গ্রেডের বেতন কয়েকগুণ বৃদ্ধি এবং সর্বোচ্চ গ্রেডেও বড় ধরনের পরিবর্তনের সুপারিশ ছিল।

এছাড়া পেনশন সুবিধা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন ভাতার পুনর্গঠনের কথাও প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়। এসব সুপারিশের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে।

সব মিলিয়ে, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন শুরু হলে সরকারি চাকরিজীবীদের আয়ে বড় পরিবর্তন আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অর্থনৈতিক চাপ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা বিবেচনায় নিয়ে এই পরিকল্পনা ধীরে ধীরে বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে সরকার।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!