প্রকাশিত: জুলাই ৫, ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে আপাতত অপেক্ষাই বাড়ছে। চলতি জুলাই মাসে নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন প্রকাশের সম্ভাবনা না থাকায় চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। যদিও বাজেট ঘোষণায় বলা হয়েছিল, চলতি বছরের এক জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করা হবে। তবে প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়া এবং ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থার কারিগরি জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়সীমা পেছানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সরকারের বিভিন্ন দপ্তর এখন আর্থিক সক্ষমতা, প্রশাসনিক বাস্তবতা এবং বিদ্যমান ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থার সঙ্গে নতুন কাঠামোর সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার কাজ করছে। এসব প্রস্তুতি শেষ হলে আগামী সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি অথবা শেষ সপ্তাহে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে প্রজ্ঞাপন প্রকাশে বিলম্ব হলেও নতুন বেতন কাঠামোর কার্যকারিতা চলতি বছরের এক জুলাই থেকেই গণনা করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বর্ধিত বেতনের পাশাপাশি বকেয়া পাওনাও একসঙ্গে পাবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা।
প্রজ্ঞাপন প্রকাশে দেরি হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবী ও অবসরপ্রাপ্তদের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। নতুন মূল বেতন কত হবে, কোন ধাপে তা কার্যকর হবে, বিভিন্ন ভাতা কীভাবে যুক্ত হবে এবং অবসর সুবিধার হিসাব কোন নিয়মে নির্ধারণ করা হবে—এসব বিষয় এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে অনেকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।
এদিকে বিলম্বের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থার কারিগরি জটিলতা। বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি, পেনশন, অবসর ভাতা এবং অন্যান্য আর্থিক কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে কার্যকর করতে গেলে বিদ্যমান ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার উন্নয়ন ও তথ্য সমন্বয়ের কাজ চলছে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিনিধিরা বলছেন, ধাপে ধাপে মূল বেতন কার্যকর হলে একই ব্যক্তির বেতন বারবার পুনর্নির্ধারণ করতে হতে পারে। এতে প্রশাসনিক জটিলতা বাড়ার পাশাপাশি কারিগরি ত্রুটির ঝুঁকিও তৈরি হবে। বিশেষ করে পদোন্নতি, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি এবং অবসরকালীন আর্থিক সুবিধা নির্ধারণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে রয়েছেন অবসরের কাছাকাছি থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কারণ, তাদের পেনশন, অবসর ভাতা এবং অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা সর্বশেষ মূল বেতনের ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়। নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে বিলম্ব হলে এসব সুবিধা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি নতুন বেতন কাঠামোর আর্থিক প্রভাব, প্রশাসনিক বাস্তবতা এবং প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘ সময় পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো চালু করা ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও এর বাস্তবায়নে মূল্যস্ফীতি, সরকারি ব্যয় এবং সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্যের বিষয়গুলোও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।



