প্রকাশিত: আগস্ট ৩১, ২০২৬, ০৮:৫৩ এএম
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছে মন্ত্রিসভা কমিটি। সচিবালয়ে বিকেলে পূর্বনির্ধারিত এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া নিয়ে আলোচনা এবং পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে আগ্রহ রয়েছে। প্রস্তাবিত কাঠামোতে বিভিন্ন গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন বর্তমানের তুলনায় শতভাগ বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়ে সচিব কমিটি দুই অর্থবছরে এটি কার্যকর করার সুপারিশ করেছিল। তবে পরবর্তী সময়ে তৈরি করা চূড়ান্ত খসড়ায় সেই পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। ফলে নতুন কাঠামো কীভাবে এবং কোন সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে, তা নিয়ে আজকের বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।
এদিকে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান নিয়েও আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর। ওই বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের সম্ভাব্য ব্যয়, অর্থের জোগান এবং অন্যান্য আর্থিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে প্রস্তাবিত খসড়াটি অনুমোদন পেলে পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হতে পারে। সব প্রক্রিয়া শেষ করে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করার সম্ভাবনার কথাও বলা হচ্ছে।
তবে প্রজ্ঞাপন জারি এবং নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার বিষয়টি মন্ত্রিসভা কমিটি ও সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। খসড়া অনুমোদনের পরও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
প্রস্তাবিত কাঠামোতে মূল বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার কাঠামোতেও পরিবর্তন আসতে পারে কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আয় বাড়লে তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি তৈরি হতে পারে বলে আশা করছেন অনেকেই।
অন্যদিকে, সরকারের জন্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে এর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সামাল দেওয়া। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন শতভাগ পর্যন্ত বাড়ানোর মতো বড় পরিবর্তন বাস্তবায়নে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে। ফলে অর্থের সংস্থান কীভাবে করা হবে, সেটিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে।
সব মিলিয়ে আজকের মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠককে নতুন পে-স্কেলের ভবিষ্যৎ অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৈঠকে খসড়াটি অনুমোদন পেলে দ্রুত পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোর কোনো বিষয়কেই চূড়ান্ত বলে বিবেচনা করা যাবে না।



