প্রকাশিত: মে ১৯, ২০২৬, ০১:৩২ পিএম
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল আগামী ১৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
মঙ্গলবার রাজধানীর তথ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরতে গিয়ে তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, দেশের বিমান পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার অংশ হিসেবে তৃতীয় টার্মিনাল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে অবকাঠামোগত প্রস্তুতি এবং প্রযুক্তিগত সংযোজনের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
তিনি বলেন, নতুন টার্মিনাল চালু হলে যাত্রীসেবা আরও সহজ, দ্রুত এবং আধুনিক হবে। আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা করছে সরকার। একই সঙ্গে দেশের বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনায় নতুন সক্ষমতা যুক্ত হবে, যা আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেলেও দেশে প্রয়োজনীয় জ্বালানি মজুদ রয়েছে। সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ কম রাখতে বাজারকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব না হলেও দেশের বাজারে সহনীয় পর্যায়ে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন কৌশল গ্রহণ করেছে। জনগণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় যাতে বড় ধরনের প্রভাব না পড়ে, সেদিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য খাতের বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, অতীতে টিকাদান কার্যক্রমে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে হাম রোগের বিস্তার বেড়েছিল। এর প্রভাব এখনো দেশকে বহন করতে হচ্ছে। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রয়োজনীয় টিকা সংগ্রহ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও জানান, শিগগিরই স্বাস্থ্য পরিচয়পত্র বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে। এর মাধ্যমে নাগরিকরা স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে নতুন সুবিধা পাবেন এবং চিকিৎসা তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গণমাধ্যম খাতের পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী। তার মতে, গণমাধ্যম পরিচালনায় বর্তমানে কিছু অসংগতি ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বিদ্যমান রয়েছে। এ অবস্থার উন্নয়নে সরকার একটি গণমাধ্যম কমিশন গঠনের পরিকল্পনা করছে।
তিনি জানান, আগামী জুন মাসের মধ্যে এ বিষয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। পরে সেই কমিটি বিভিন্ন সুপারিশ ও মূল্যায়ন শেষে জুলাই মাসের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন সরকারপ্রধানের কাছে জমা দেবে। এর ভিত্তিতে গণমাধ্যম খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম নেওয়া হতে পারে।
এছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
সব মিলিয়ে, বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল চালু থেকে শুরু করে জ্বালানি, স্বাস্থ্য ও গণমাধ্যম খাতে সরকারের একাধিক পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে এই সংবাদ সম্মেলনে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের সেবাখাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।



