প্রকাশিত: মে ১৯, ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম
দেশজুড়ে হাম রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় নতুন সতর্কতা জারি করেছে সরকার। সংক্রামক এই রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সরকারি ও বেসরকারি সব হাসপাতাল, ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে পৃথক ওয়ার্ড, বিশেষ তদারকি এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, হাম এবং হামের উপসর্গ রয়েছে এমন রোগীদের সাধারণ রোগীদের সঙ্গে রাখা যাবে না। এজন্য প্রতিটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে আলাদা ওয়ার্ড কিংবা পৃথক কক্ষের ব্যবস্থা রাখতে হবে। সেখানে আক্রান্ত রোগীদের ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাম অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়া একটি ভাইরাসজনিত রোগ। একজন আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সহজেই বহু মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধক্ষমতাসম্পন্ন মানুষের জন্য এই রোগ অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে রোগীদের বিচ্ছিন্ন রেখে চিকিৎসা দেওয়া সময়োপযোগী ও কার্যকর সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নতুন নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, হাম রোগীদের জন্য নির্ধারিত বিচ্ছিন্ন ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসক, সেবাকর্মী ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করতে হবে। শুধু তাই নয়, ছুটির দিনসহ প্রতিদিন অন্তত দুইবার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের রোগীদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে। সকাল ও বিকালে নিয়মিত তদারকি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো রোগীর অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।
হাসপাতালে রোগী দেখতে আসা স্বজনদের ক্ষেত্রেও নতুন সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, একজন রোগীর সঙ্গে একজনের বেশি অভিভাবক বা দর্শনার্থী থাকতে পারবেন না। কারণ অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি সংক্রমণ ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। হাসপাতালভিত্তিক সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
একই সঙ্গে প্রতিদিন ভর্তি রোগীদের তথ্য নিয়মিতভাবে কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা, চিকিৎসার অগ্রগতি এবং সংক্রমণের বিস্তার সম্পর্কে দ্রুত ধারণা পাওয়া সহজ হবে। স্বাস্থ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে হাম রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশুদের নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করা এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনা জরুরি। তারা বলছেন, সচেতনতার অভাব ও টিকা কার্যক্রমে অনিয়ম থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, কারও শরীরে জ্বর, চোখ লাল হওয়া, কাশি, সর্দি কিংবা গায়ে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর রোগীকে অন্যদের সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখাও প্রয়োজন, যাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে।
স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও প্রস্তুত রাখতেই এই বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের আশা, দ্রুত চিকিৎসা, বিচ্ছিন্ন সেবা এবং সতর্কতা জোরদার হলে হামের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে এবং সাধারণ মানুষও ঝুঁকি থেকে নিরাপদ থাকবে।



