প্রকাশিত: মে ৩০, ২০২৬, ১০:২৮ এএম
বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি, মুক্তিযুদ্ধের সাহসী সংগঠক ও অন্যতম সেক্টর কমান্ডার শহীদ জিয়াউর রহমানের পঁয়তাল্লিশতম শাহাদাতবার্ষিকী আজ পালিত হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন পর্যায়ে স্মরণ, শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে দলীয় ও সামাজিক উদ্যোগে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
উনিশশ একাশি সালের ত্রিশে মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক মর্মান্তিক ঘটনার মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান নিহত হন। সে সময় সেনাবাহিনীর একটি বিদ্রোহী অংশের সদস্যদের হাতে তার মৃত্যু ঘটে। পরবর্তীকালে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন আলোচনা ও নানা বিশ্লেষণ চলতে থাকে।
দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আট দিনব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। গত পঁচিশে মে থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি আগামী পহেলা জুন পর্যন্ত চলবে। এ সময়ের মধ্যে সারা দেশে স্মরণমূলক প্রচারসামগ্রী প্রকাশ, কালো ব্যাজ ধারণ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঘোষিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, ত্রিশে মে ভোরে কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশের সব স্তরের দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। একই সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতির স্মরণে বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন থাকবে।
দিবসের অন্যতম প্রধান আয়োজন হিসেবে রাজধানীতে জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব, বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং সমর্থকেরা সেখানে উপস্থিত হয়ে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন ও জিয়ারত করবেন। পরে মাজার প্রাঙ্গণে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠানেরও আয়োজন রাখা হয়েছে।
শুধু আনুষ্ঠানিক স্মরণেই সীমাবদ্ধ থাকছে না এবারের কর্মসূচি। দেশের বিভিন্ন এলাকায় অসচ্ছল ও নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় বস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকা ছাড়াও জেলা ও মহানগর পর্যায়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই কর্মসূচি পরিচালিত হবে।
পরদিন রাজধানীর রমনায় একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখবেন এবং জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক জীবন, রাষ্ট্র পরিচালনায় ভূমিকা ও স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের উন্নয়নে তার অবদান নিয়ে আলোচনা করবেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এবং যুদ্ধক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়ে সাহসিকতার পরিচয় দেন। স্বাধীনতার পর তিনি দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং বহুদলীয় গণতান্ত্রিক চর্চা পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে জাতীয়তাবাদভিত্তিক রাজনৈতিক দর্শনের প্রসারেও তার অবদান নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা রয়েছে।
প্রতি বছর এই দিনে রাজনৈতিক কর্মী, সমর্থক ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকে স্মরণ করে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শাহাদাতবার্ষিকী পালন করে থাকেন।



