প্রকাশিত: মে ৩০, ২০২৬, ১১:৫৬ এএম
পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে বাংলাদেশে ফিরতে শুরু করেছেন হাজিরা। হজ পালন শেষে প্রথম ফিরতি যাত্রায় চার শতাধিক যাত্রী নিয়ে একটি উড়োজাহাজ রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। এতে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর স্বজনদের মাঝে ফিরতে শুরু করেছেন পবিত্র হজ পালন করা যাত্রীরা।
শনিবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে প্রথম ফিরতি উড়োজাহাজটি ঢাকায় পৌঁছায়। এতে মোট চারশ ঊনিশ জন হজযাত্রী ছিলেন। বিমানবন্দরে তাদের স্বাগত জানাতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা এবং স্বজনদের উপস্থিতি দেখা যায়। অনেকের চোখেমুখে ছিল আনন্দ আর আবেগের ছাপ। দীর্ঘদিন পর প্রিয়জনদের কাছে ফিরে আসায় হাজিদের মধ্যেও স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে।
সৌদি আরবের জেদ্দা শহরের কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে স্থানীয় সময় মধ্যরাতের কিছু পর প্রথম ফিরতি উড়োজাহাজটি যাত্রা শুরু করে। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে হজ শেষে হাজিদের দেশে ফেরার কার্যক্রম শুরু হলো। আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে ধাপে ধাপে অন্য হাজিরাও দেশে ফিরবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দিনেই মোট তেরোটি উড়োজাহাজে পাঁচ হাজার চার শত চৌত্রিশ জন হাজির দেশে ফেরার কথা রয়েছে। এই যাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে। যাত্রীদের দ্রুত লাগেজ সংগ্রহ, স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে বাড়তি ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
হজ পালন শেষে দেশে ফেরার এই মুহূর্তকে ঘিরে বিমানবন্দরে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়। অনেক স্বজন ফুল ও শুভেচ্ছা নিয়ে হাজিদের বরণ করতে আসেন। প্রবাস জীবনের মতো দীর্ঘদিনের বিচ্ছেদের পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার দৃশ্য আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করে।
এ বছরের হজ কার্যক্রম শুরু হয়েছিল গত এপ্রিল মাসে। রাজধানীর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে হজযাত্রী পরিবহন শুরু হয় এবং পর্যায়ক্রমে হাজারো যাত্রী সৌদি আরবে যান। বাংলাদেশ থেকে যাওয়া শেষ হজযাত্রীবাহী উড়োজাহাজ গত একুশে মে সৌদি আরবে পৌঁছায়।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী হাজিদের ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আগামী পহেলা জুলাই পর্যন্ত ফিরতি যাত্রা চলমান থাকবে। ফলে ধাপে ধাপে সব হাজি নিরাপদে দেশে ফিরে আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
পবিত্র হজ পালন শেষে নিরাপদে স্বজনদের কাছে ফিরে আসতে পারায় হাজিরা মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে পরিবার-পরিজনের সদস্যরাও প্রিয়জনদের সুস্থভাবে ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।



