প্রকাশিত: মে ৩১, ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের উন্নয়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় এমন পথ অনুসরণ করা হচ্ছে, যা জিয়াউর রহমানের ভাবনা ও কর্মদর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি মনে করেন, জনগণ সবসময় তাদের প্রতিই প্রত্যাশা রাখে, যাদের কাছ থেকে ইতিবাচক পরিবর্তন ও বাস্তব সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
রোববার রাজধানীর কৃষিবিদ মিলনায়তনে আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ নিয়ে নানা দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে, যা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে না পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সময়ের গুরুত্ব অনুধাবন করে সবাইকে আরও সচেতন ও দায়িত্ববান হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, জিয়াউর রহমান নেতৃত্ব, সততা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশকে এমন এক অবস্থানে নিয়ে গিয়েছিলেন, যেখানে জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন তিনি। দেশের অর্থনীতি, প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় পরিবর্তন আনতে তার অবদান আজও মানুষের স্মৃতিতে অম্লান বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে দেশের উন্নয়ন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে অতীতের সফল নেতৃত্বের ইতিবাচক দৃষ্টান্ত অনুসরণ করা জরুরি। তার মতে, জিয়াউর রহমান যে রাষ্ট্রচিন্তা রেখে গেছেন, তা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন, যাতে তারা দেশ গঠনে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে পারে।
সমাজে মূল্যবোধের অবক্ষয় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, সামাজিক, ধর্মীয় ও পারিবারিক শিক্ষার ঘাটতি ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। শিশু ও তরুণদের মধ্যে নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তুলতে শিক্ষা ও তথ্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে যেভাবে তৃণমূল পর্যায়ে সক্রিয়তা ও পরিশ্রম দেখা গেছে, সেটি ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখতে হবে। জনগণের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারের কর্মকাণ্ডকে সফল করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আলোচনাসভায় দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা ছাড়াও বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক জীবন, রাষ্ট্র পরিচালনায় তার ভূমিকা এবং দেশের উন্নয়নে তার অবদান নিয়ে আলোচনা করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক ও সামাজিক নানা চ্যালেঞ্জের সময়ে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য দেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও দলীয় অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।



