রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য আসছে বড় সুখবর

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ৭, ২০২৬, ১২:১২ পিএম

কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য আসছে বড় সুখবর

প্রতীকী ছবি

ডিজিটাল মাধ্যমে আয় করা কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির খবর আসতে পারে আগামী অর্থবছরের বাজেটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক আয়কে করমুক্ত করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যম থেকে আয় করা ক্ষুদ্র ও স্বাধীন কনটেন্ট নির্মাতাদের আর উৎসে কর দিতে হবে না।

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কাজ করে যারা আয় করেন, তাদের আয়ের একটি অংশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কর হিসেবে কেটে রাখা হয়। প্রচলিত ব্যবস্থায় ব্যাংকের মাধ্যমে নির্দিষ্ট হারে অর্থ কেটে নেওয়া হয়, যা অনেক ক্ষুদ্র আয়কারীর জন্য বাড়তি চাপ হিসেবে দেখা দিচ্ছিল। তবে নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, সীমিত আয়ের কনটেন্ট নির্মাতা ও স্বাধীনভাবে কাজ করা ব্যক্তিদের এই করের আওতার বাইরে রাখার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন অর্থবছরের বাজেটে প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান বাড়ানো, তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দেওয়া এবং ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরও বিস্তৃত করার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর কাজ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং সৃজনশীল ডিজিটাল খাতে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সরকারি পরিকল্পনায় অনলাইনভিত্তিক আয়কারীদের জন্য আরও কিছু সুবিধা রাখার বিষয়েও আলোচনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সহজ অর্থ লেনদেন ব্যবস্থা চালু, নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা, বিশেষ তহবিল গঠন এবং দীর্ঘমেয়াদি কর-সুবিধা। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা জোরদার এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কনটেন্ট নির্মাতা বলতে সাধারণত সেইসব মানুষকে বোঝানো হয়, যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে তথ্যভিত্তিক, শিক্ষামূলক কিংবা বিনোদনমূলক ছবি, শব্দ বা দৃশ্যভিত্তিক উপকরণ তৈরি করেন। তারা বিজ্ঞাপন, প্রচারণা কিংবা বিভিন্ন অংশীদারিত্বমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে আয় করে থাকেন। এদের মধ্যে অনেকে এককভাবে কাজ করেন এবং ক্ষুদ্র পরিসরে আয় করেন বলে জানা গেছে।

তবে বড় প্রতিষ্ঠান বা সংবাদভিত্তিক দপ্তর পরিচালিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষেত্রে আগের করব্যবস্থা বহাল থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অর্থাৎ ব্যক্তি পর্যায়ের ক্ষুদ্র আয়কারীরা সুবিধা পেলেও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক আয়ের ক্ষেত্রে ভিন্ন নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।

এদিকে দেশের একটি বেসরকারি ব্যাংক ইতোমধ্যে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ফ্রিল্যান্স আয় থেকে কর কর্তন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে যাদের হিসাব থেকে আগেই অর্থ কেটে নেওয়া হয়েছে, তা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। এই উদ্যোগে ডিজিটাল পেশাজীবীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কর ছাড়ের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দেশের তরুণ প্রজন্ম আরও বেশি ডিজিটাল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে উৎসাহিত হবে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সৃজনশীল অর্থনীতির প্রসারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!