প্রকাশিত: জুন ৭, ২০২৬, ০৪:১০ পিএম
সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে দীর্ঘদিনের প্রচলিত সরাসরি বরাদ্দ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে সরকার। পূর্ববর্তী নিয়ম অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের হাতে উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য যে থোক বরাদ্দ দেওয়া হতো, তা বাতিল করে আরও কেন্দ্রীয় ও নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতির মাধ্যমে উন্নয়ন কাজ পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় সংসদ সদস্যরা কেবল নিজেদের এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকল্পের প্রস্তাব দিতে পারবেন, তবে অর্থ বরাদ্দ বা প্রকল্প বাস্তবায়নে তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততা থাকবে না।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি বিশেষ সমন্বয় কাঠামো গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে স্থানীয় উন্নয়ন চাহিদা যাচাই-বাছাই করে প্রকল্প নির্বাচন করা হবে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনার ভিত্তিতে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। বিশেষ এই ব্যবস্থার দায়িত্বে অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টাকে রাখা হয়েছে। তার অনুপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
নতুন পদ্ধতিতে সংসদ সদস্যরা তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, জনগণের চাহিদা এবং স্থানীয় উন্নয়নের প্রয়োজন বিবেচনায় লিখিত আকারে প্রকল্প প্রস্তাব জমা দেবেন। তবে প্রস্তাব জমা দিলেই তা অনুমোদন হবে না। সরকারের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা, আর্থিক অগ্রাধিকার এবং নীতিগত লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকলে কেবল প্রকল্পগুলো বিবেচনায় নেওয়া হবে।
এর আগে সংসদ সদস্যরা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের মাধ্যমে উন্নয়ন খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ পেতেন। বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা, সেতু, ড্রেনেজ ও অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ মূলত তাদের সুপারিশ অনুযায়ী বাস্তবায়ন হতো। তবে এ ব্যবস্থাকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার এবং অর্থ অপচয়ের অভিযোগ উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে প্রকল্প বণ্টনের অভিযোগও ছিল।
নতুন ব্যবস্থার আওতায় একটি নির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রকল্প যাচাই ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে প্রাপ্ত প্রস্তাবগুলো বিশেষ সেল যাচাই করার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। পরে মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ সংস্থাগুলো প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে। অগ্রগতির প্রতিবেদন নির্দিষ্ট সময় অন্তর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দিতে হবে।
নীতিনির্ধারকদের মতে, এই পদ্ধতি কার্যকর হলে স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে সংসদ সদস্য বা স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অযাচিত প্রভাব কমবে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে।
সরকার ইতোমধ্যে সংসদ সদস্যদের জন্য কিছু বিশেষ সুবিধা পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে শুল্কমুক্ত যানবাহন সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তও আলোচনায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, নতুন এই উন্নয়ন কাঠামো বাস্তবায়িত হলে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও পরিকল্পিত, সুশৃঙ্খল এবং জনগণমুখী হবে।



