রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিশ্বমঞ্চে শান্তির পতাকা উড়াচ্ছে বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১৪, ২০২৬, ০৯:৪৮ এএম

বিশ্বমঞ্চে শান্তির পতাকা উড়াচ্ছে বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের সংঘাতপূর্ণ ও যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ শুধু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদা অর্জন করেনি, বরং সাহসিকতা, পেশাদারিত্ব ও মানবিক দায়িত্ববোধের অনন্য দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছে। প্রতিবছর ২৯ মে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবস পালনের মধ্য দিয়ে শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগ ও অবদান স্মরণ করা হয়।

বাংলাদেশ ১৯৮৮ সালে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার পর থেকে আফ্রিকার সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলসহ বিশ্বের বিভিন্ন সংকটপূর্ণ দেশে দায়িত্ব পালন করে আসছে। বিশেষ করে কঙ্গো, সুদান, সোমালিয়া ও মালির মতো উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা নিজেদের দক্ষতা ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। বহু ক্ষেত্রে নিজেদের জীবন বাজি রেখে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দিয়েছেন এবং সংঘাত নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছেন।

সামরিক কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে, কঙ্গোর মতো খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ কিন্তু দীর্ঘ সংঘাতে জর্জরিত দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনা ছিল অত্যন্ত কঠিন চ্যালেঞ্জ। স্বাধীনতার পর থেকেই দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা, জাতিগত বিভাজন ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষ চলতে থাকে। পরে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়।

বাংলাদেশি বাহিনীর সদস্যরা জানিয়েছেন, কঙ্গোর দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল ও ঘন জঙ্গলে অভিযান পরিচালনা করা ছিল অত্যন্ত কঠিন। প্রতিকূল পরিবেশ, ভাষাগত বাধা, অনিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা এবং সশস্ত্র বিদ্রোহীদের হামলার ঝুঁকি সত্ত্বেও বাংলাদেশি সেনারা দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন। বিশেষ কিছু অভিযানে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর শক্ত ঘাঁটি ধ্বংস করে স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।

শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি সদস্যদের আত্মত্যাগও কম নয়। এখন পর্যন্ত বহু শান্তিরক্ষী বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আত্মত্যাগ দেশের জন্য গর্বের হলেও তা একই সঙ্গে অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের ধারাবাহিক সফলতা দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশি সশস্ত্র বাহিনীর পেশাগত দক্ষতা ও সক্ষমতার প্রতি আস্থা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের এই অবদান শুধু সামরিক অর্জন নয়, এটি মানবিক দায়িত্ববোধ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!