প্রকাশিত: জুন ১৫, ২০২৬, ০১:০৪ পিএম
বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তে নিরাপত্তা, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক চোরাচালানসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই সঙ্গে সীমান্তে নিরীহ নাগরিক হত্যা ও জোরপূর্বক অনুপ্রবেশের মতো ঘটনা বন্ধে কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি বিজিবি ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে এসব বিষয় বিস্তারিতভাবে আলোচনা হয়। আলোচনায় সীমান্তে প্রাণহানির ঘটনা শূন্যে নামিয়ে আনা, অবৈধ প্রবেশ রোধ এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রটোকল কঠোরভাবে অনুসরণের বিষয়ে জোর দেওয়া হয়।
বিজিবির পক্ষ থেকে বৈঠকে বলা হয়, সীমান্তে প্রাণঘাতী ঘটনা, অননুমোদিত অনুপ্রবেশ এবং মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান উভয় দেশের নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। এসব অপরাধ দমনে যৌথ টহল বৃদ্ধি, তথ্য আদান-প্রদান এবং সমন্বিত অভিযান আরও কার্যকর করার আহ্বান জানানো হয়।
এছাড়া সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গা ও অন্যান্য বিদেশি নাগরিকদের অননুমোদিত প্রবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বিজিবি জানায়, যাচাইকৃত বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কূটনৈতিক ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
বৈঠকে সীমান্ত অবকাঠামো নির্মাণ, ১৫০ গজ সীমার মধ্যে স্থাপনা গঠন, সীমান্ত পিলার ও ভূমি নির্ধারণসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই বিদ্যমান চুক্তি ও নির্দেশিকা মেনে চলার বিষয়ে একমত পোষণ করে।
মাদক ও জাল মুদ্রা চোরাচালান রোধ, মানবপাচার প্রতিরোধ, পার্বত্য অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ এবং নদীভিত্তিক সীমান্ত সমস্যার সমাধানে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সবশেষে উভয় পক্ষ সীমান্তে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নিয়মিত যোগাযোগ, যৌথ টহল এবং পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।



