রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

প্রাথমিক শিক্ষক বদলির ক্ষমতা যাচ্ছে ডিসি-ইউএনওর হাতে

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১৫, ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম

প্রাথমিক শিক্ষক বদলির ক্ষমতা যাচ্ছে ডিসি-ইউএনওর হাতে

ছবি: সংগৃহীত

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। নতুন নীতিমালার আওতায় শিক্ষক বদলির ক্ষমতা ধাপে ধাপে স্থানীয় প্রশাসনের হাতে ন্যস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বিভাগীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিদের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিগুলো শিক্ষক বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও অনুমোদনের দায়িত্ব পালন করবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক বদলি প্রক্রিয়াকে আরও জবাবদিহিমূলক ও বিকেন্দ্রীকরণ করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় উপজেলা, জেলা, বিভাগ এবং সিটি করপোরেশন পর্যায়ে পৃথক কমিটি গঠন করা হবে। এসব কমিটি নিয়মিত সভার মাধ্যমে বদলির আবেদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত কমিটি আবেদন যাচাই করবে এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তা বদলির আদেশ জারি করবেন। একইভাবে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়েও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে কমিটি কাজ করবে। প্রতি মাসে অন্তত একবার বৈঠক করে আবেদন নিষ্পত্তির পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানোরও বিধান রাখা হয়েছে।

তবে সরকারের এই উদ্যোগ নিয়ে শিক্ষক সমাজে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেক শিক্ষক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মতে, অনলাইনভিত্তিক বদলি ব্যবস্থা চালুর পর পূর্বের নানা অনিয়ম ও তদবির অনেকাংশে কমে এসেছিল। এখন আবার স্থানীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ বাড়লে রাজনৈতিক, সামাজিক কিংবা প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো বিদ্যালয়ে কতজন শিক্ষক প্রয়োজন, কোথায় শূন্যপদ রয়েছে কিংবা শিক্ষার্থী-শিক্ষকের অনুপাত কী অবস্থায় আছে—এসব বিষয়ে শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের তুলনায় মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা তুলনামূলক কম। ফলে অনেক ক্ষেত্রে বাস্তব প্রয়োজনের চেয়ে প্রশাসনিক বিবেচনা বেশি গুরুত্ব পেতে পারে।

শিক্ষক নেতারাও আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, নতুন কাঠামো কার্যকর হলে বদলি প্রক্রিয়ায় প্রভাবশালী মহলের সুপারিশ ও তদবিরের প্রবণতা বাড়তে পারে। এতে সাধারণ শিক্ষকরা ন্যায্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন।

অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক বদলি খাতে যে অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ছিল, তা দূর করতেই এই নতুন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারের আশা, স্থানীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে বদলি কার্যক্রম আরও দ্রুত, কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক হবে।

তবে শিক্ষাবিদ ও শিক্ষক সংগঠনগুলোর একটি বড় অংশ মনে করছে, নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নের আগে এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনা ও পর্যালোচনা প্রয়োজন, যাতে শিক্ষকদের স্বার্থ ও শিক্ষার মান দুটিই সমানভাবে সুরক্ষিত থাকে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!