রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগে আপিল বিভাগের সবুজ সংকেত

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২৬, ১১:৩২ এএম

৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগে আপিল বিভাগের সবুজ সংকেত

ফাইল ছবি

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা প্রধান শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রমে নতুন গতি ফিরেছে। আপিল বিভাগের এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ের ফলে প্রায় ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনি জটিলতার অবসান হয়েছে। এর ফলে নিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে নিতে আর কোনো আইনগত বাধা থাকছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রধান শিক্ষক নিয়োগ-সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি শেষে আপিল বিভাগ এ রায় প্রদান করেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে স্থগিত থাকা নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করার পথ সুগম হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের অসংখ্য পদ শূন্য রয়েছে। এসব শূন্য পদের কারণে অনেক বিদ্যালয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং শিক্ষার মান বজায় রাখতে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছিল। এমন পরিস্থিতিতে বিপুলসংখ্যক প্রধান শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিচারাধীন মামলার কারণে পুরো প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শূন্য পদ পূরণের লক্ষ্যে প্রায় ৩২ হাজার ৫০০ জন প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে আদালতের নির্দেশনার কারণে সেই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ আপিল বিভাগের রায়ের পর সেই জটিলতা দূর হওয়ায় নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, প্রধান শিক্ষক একটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দু। দীর্ঘ সময় পদগুলো শূন্য থাকায় অনেক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, শিক্ষা ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজেও ধীরগতি দেখা দেয়।

এদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এর আগে জানিয়েছিল, বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের সংকট নিরসনে বৃহৎ পরিসরে নিয়োগ দেওয়া হবে। আদালতের রায়ের কারণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন বিলম্বিত হলেও এখন নতুন করে কার্যক্রম শুরু করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হলে দেশের হাজারো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেতৃত্বের শূন্যতা দূর হবে। পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে এবং বিদ্যালয় পরিচালনায় গতি ফিরে আসবে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আদালতের এই সিদ্ধান্তে নিয়োগপ্রত্যাশীদের মধ্যেও স্বস্তি ও আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!