প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০২৬, ০৯:৪৭ এএম
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি ও পদায়ন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা কার্যকর করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংশোধিত এই নীতিমালায় বিতর্কিত ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ অন্তর্ভুক্তির বিধান বাতিল করা হয়েছে। এর পরিবর্তে স্থানীয়ভাবে শিক্ষা ও সমাজকল্যাণে অবদান রাখা বিদ্যোৎসাহী বা শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শিক্ষক বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়াকে আরও গ্রহণযোগ্য এবং স্বচ্ছ করতে সাম্প্রতিক সময়ে নীতিমালায় একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয়—এই চার স্তরের কমিটির কাঠামো বহাল থাকলেও সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা কার্যকর করা হয়েছে। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় পর্যায়ে বিভাগীয় কমিশনার নিজ নিজ কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
একই সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ের কমিটির নেতৃত্বেও পরিবর্তন এসেছে। আগে যেখানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব সভাপতির দায়িত্ব পালন করতেন, এখন সেই দায়িত্ব পালন করবেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। এছাড়া কমিটিতে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া আরও কার্যকর ও দ্রুত হয়।
নতুন নীতিমালায় শিক্ষক বদলির ক্ষেত্রে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত সংযোজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—চাকরিতে কমপক্ষে দুই বছর পূর্ণ না হলে বদলির আবেদন করা যাবে না, বদলির পর তিন বছর পূর্ণ হওয়ার আগে পুনরায় বদলির সুযোগ থাকবে না, শুধুমাত্র শূন্য পদের বিপরীতে বদলি করা হবে এবং আবেদন ছাড়া কোনো শিক্ষককে অন্যত্র বদলি করা যাবে না। তবে বিশেষ প্রশাসনিক প্রয়োজন বা জনস্বার্থে জাতীয় কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।
এ ছাড়া যেসব বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংখ্যা কম অথবা শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত নির্ধারিত সীমার বেশি, সেসব বিদ্যালয় থেকে শিক্ষক বদলি করা যাবে না। একই বিদ্যালয় থেকে একাধিক শিক্ষক আবেদন করলে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি একটি বিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ তিনজন শিক্ষককে সংযুক্তির মাধ্যমে পদায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে। নারী শিক্ষকদের ক্ষেত্রে স্থায়ী ঠিকানা বা স্বামীর কর্মস্থলের নিকটবর্তী বিদ্যালয়ে বদলির বিষয়েও অগ্রাধিকার দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
সংশোধিত নীতিমালায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিটি কমিটি প্রতি মাসে অন্তত একবার বৈঠক করে জমা পড়া আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তি করবে। একই জেলা বা বিভাগের মধ্যে বদলির বিষয় সংশ্লিষ্ট কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে, আর আন্তঃবিভাগীয় বদলির আবেদন জাতীয় কমিটির মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন নীতিমালার ফলে শিক্ষক বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে, অপ্রয়োজনীয় প্রভাব ও অনিয়ম কমবে এবং প্রকৃত যোগ্যতার ভিত্তিতে বদলির সুযোগ নিশ্চিত হবে। এর মাধ্যমে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল ও কার্যকর হবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেছেন।



