প্রকাশিত: জুন ১৬, ২০২৬, ১২:৫১ পিএম
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রবেশকে ঘিরে সৃষ্ট অস্বাভাবিক পরিস্থিতির পর দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্তকে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর নীতিনির্ধারণ ও কৌশলবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত সফর নয়, বরং রাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে সেখানে গিয়েছিলেন। ফলে তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে গুরুত্বসহকারে দেখেছেন এবং রাষ্ট্রীয় অবস্থানের প্রতিফলন ঘটাতেই ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেন। ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বিদেশ সফরে তিনি একজন ব্যক্তি হিসেবে যাননি, বরং সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিতে গিয়েছিলেন। সে কারণে বিমানবন্দরে সৃষ্ট পরিস্থিতির পর তার মনে হয়েছে, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি সুস্পষ্ট বার্তা দেওয়া প্রয়োজন। এ কারণেই তিনি সফর বাতিল করে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি আরও জানান, শুরুতে তাকে ভারতে প্রবেশে জটিলতার মুখোমুখি হতে হলেও পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করে। এমনকি তাকে বৈঠকে অংশ নেওয়ার অনুরোধও জানানো হয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতি বিবেচনায় তিনি আর সেখানে প্রবেশ না করে ফিরে আসাকেই উপযুক্ত মনে করেছেন।
জানা গেছে, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সহযোগিতামূলক একটি জ্যেষ্ঠ পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল ডা. জাহেদ উর রহমানের। এ উদ্দেশ্যে তিনি রোববার সন্ধ্যায় দিল্লির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। তবে আগাম আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ সম্পন্ন থাকা সত্ত্বেও সেখানে তাকে প্রবেশে সাময়িক বাধার মুখে পড়তে হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
পরবর্তীতে উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনার পর তার প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও তিনি আর সফর অব্যাহত রাখেননি। পরিবর্তে অন্য একটি দেশের মাধ্যমে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন এবং পরদিন ঢাকায় ফিরে আসেন।
পররাষ্ট্রসংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী আগেই ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। ফলে বিমানবন্দরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় কূটনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে আচরণ অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। তাই এ ধরনের ঘটনা দুই দেশের পারস্পরিক যোগাযোগ ও কূটনৈতিক সৌজন্যের প্রশ্নেও আলোচনার জন্ম দিতে পারে। যদিও বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক পর্যায়ে এখনো বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা সামনে আসেনি।



