প্রকাশিত: জুন ১৭, ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম
সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনাগুলোকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, প্রতিবেশী দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে বাংলাদেশিদের প্রাণহানির বিষয়টি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং প্রতিটি সীমান্ত সম্মেলনে এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান দৃঢ়ভাবে তুলে ধরা হচ্ছে।
বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এক লিখিত উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্তে আত্মরক্ষার অজুহাতে প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বাংলাদেশ বরাবরই এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করে এসেছে এবং বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করেছে। তিনি জানান, সীমান্তে প্রাণহানি রোধে ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সীমান্তে সংঘটিত অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ন্যায়বিচারের বিষয়টি বিভিন্ন পর্যায়ের বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। যদিও নিহতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতা হয়নি, তবুও বাংলাদেশ এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানবিক মূল্যবোধের আলোকে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে আসছে।
তিনি জানান, দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্রের পরিবর্তে অপ্রাণঘাতী উপকরণ ব্যবহারের বিষয়ে একাধিকবার আশ্বাস পাওয়া গেছে। সীমান্ত অঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করছে।
সংসদে অপর এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের কারাগারগুলোর বর্তমান পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন কারাগারে ধারণক্ষমতার তুলনায় বন্দির সংখ্যা অনেক বেশি। বর্তমানে কারাগারগুলোতে মোট বন্দির সংখ্যা সত্তর হাজারেরও বেশি, যা অনুমোদিত ধারণক্ষমতার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ফলে অনেক কারাগারে আবাসন সংকট দেখা দিয়েছে।
এই সংকট নিরসনে নতুন কারাগার চালু, বিদ্যমান কারাগারের সম্প্রসারণ এবং আধুনিকায়নের কাজ চলছে বলে জানান তিনি। বিভিন্ন জেলার কারাগার পুনর্নির্মাণ ও সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বন্দি ধারণক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য পাসপোর্ট সেবা সহজ ও সাশ্রয়ী করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রবাসীদের জন্য পাসপোর্ট ফি কমানোর একটি প্রস্তাব বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি দূরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী নাগরিকদের সুবিধার্থে ভ্রাম্যমাণ নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের ঘরে বসেই পাসপোর্ট গ্রহণের সুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। দ্রুততম সময়ে পাসপোর্ট পৌঁছে দিতে আধুনিক বিতরণব্যবস্থাও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি পাসপোর্ট চালুর ফলে নবায়ন-সংক্রান্ত ভোগান্তিও অনেকাংশে কমে এসেছে।
সরকার সীমান্ত নিরাপত্তা, কারা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং প্রবাসীদের সেবা নিশ্চিত করতে সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও সংসদকে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।



