প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, দর্শন ও মানবিক আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরতে এক বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ পালনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ উপলক্ষে রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে উদ্যাপন করা হবে। ঘোষণাটি কার্যকর ধরা হয়েছে চলতি বছরের ২৫ মে থেকেই। এর মাধ্যমে জাতীয় কবির জীবন, সাহিত্যকর্ম, সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা দেশব্যাপী নতুন করে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জাতীয় পর্যায়ে কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গত ২৩ মে ময়মনসিংহের ত্রিশালে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত অতিথিদের সামনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী এক বছরকে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দেন। সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় এখন আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বিশেষ বর্ষ উদ্যাপনের মাধ্যমে কবির সাহিত্য, সংগীত, সাংবাদিকতা, সমাজচিন্তা ও স্বাধীনচেতা দর্শন সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে আরও গভীরভাবে জানার সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান নজরুলকে কেন্দ্র করে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্রোহ, সাম্য, মানবমুক্তি ও শোষণবিরোধী চেতনার প্রতীক কাজী নজরুল ইসলাম শুধু বাংলা সাহিত্য নয়, জাতীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতিরও অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই ‘নজরুল বর্ষ’ উদ্যাপন কবির সৃষ্টিকর্মকে নতুনভাবে মূল্যায়নের পাশাপাশি জাতীয় সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
আগামী এক বছরে দেশের বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গবেষণা কার্যক্রম এবং নজরুলসাহিত্যভিত্তিক নানা আয়োজনের মাধ্যমে জাতীয় কবির স্মৃতি ও আদর্শকে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।



