রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কাজী নজরুল ইসলাম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রেরণার উৎস: প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২৬, ০৪:২১ পিএম

কাজী নজরুল ইসলাম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রেরণার উৎস: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কেবল একটি ঐতিহাসিক নাম নন, তিনি বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের জন্যও অনুপ্রেরণার এক চিরন্তন উৎস বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, অন্যায়, বৈষম্য ও অসাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে নজরুলের সাহিত্য ও চিন্তাধারা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক এবং নতুন প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে তার সৃষ্টিকর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’ উপলক্ষে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বছরব্যাপী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

সরকার ইতোমধ্যে ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই সময়জুড়ে জাতীয় কবির জীবন, সাহিত্য, সংগীত, দর্শন ও মানবিক আদর্শকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরতে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি কবির স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশালকে ‘নজরুল সিটি’ হিসেবে ঘোষণার সম্ভাবনাও যাচাই করা হচ্ছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতিহাসে এমন কিছু মানুষ জন্ম নেন, যাদের চিন্তা ও সৃষ্টিশীলতা যুগের পর যুগ সমাজকে প্রভাবিত করে। কাজী নজরুল ইসলাম তেমনই এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব। তার কবিতা, গান, প্রবন্ধ এবং সাহিত্যকর্ম মানুষের মুক্তচিন্তা, সাম্য, মানবতা ও ন্যায়বোধকে শক্তিশালী করেছে।

তিনি আরও বলেন, শোষণ, বৈষম্য, কুসংস্কার এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে নজরুল আজীবন কলমকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন। একই সঙ্গে ধর্মীয় সম্প্রীতি, মানবিক মূল্যবোধ, প্রেম, প্রকৃতি ও দেশপ্রেমকে তার সৃষ্টিতে অনন্যভাবে তুলে ধরেছেন। এ কারণেই তিনি সব সময় সব প্রজন্মের কাছে প্রাসঙ্গিক হয়ে থাকবেন।

তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই সময়ে নতুন প্রজন্মকে নৈতিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে নজরুলের সাহিত্য বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মত দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কবির সৃষ্টিকর্ম তরুণদের দায়িত্ববোধ, মানবিকতা এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে সক্ষম।

অনুষ্ঠানে তিনি আরও আহ্বান জানান, দেশব্যাপী সাহিত্য সম্মেলন, গবেষণা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সংগীত পরিবেশনা, নাট্যোৎসব ও চিত্রপ্রদর্শনীর মাধ্যমে জাতীয় কবির আদর্শ সাধারণ মানুষের কাছে আরও বিস্তৃতভাবে পৌঁছে দিতে হবে। বিশেষ করে গবেষক, সংস্কৃতিকর্মী ও নজরুলপ্রেমীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনকে অর্থবহ করে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে জাতীয় কবির জীবন, সাহিত্য ও মানবিক দর্শনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’-এর বছরব্যাপী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে স্মারক ডাকটিকিট ও বিশেষ প্রতীকও উন্মোচন করা হয়।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!