প্রকাশিত: আগস্ট ২৭, ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম
দ্রোহ, সাম্য, মানবতা ও প্রেমের চেতনায় বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। বাংলা ১৩৮৩ সালের ১২ ভাদ্র ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা ভাষার অন্যতম শক্তিমান এই কবি। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও তাঁর কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম মানুষের মনে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে। ছোটবেলায় তাঁর ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করেই তাঁর শৈশব ও কৈশোর কেটেছে। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সাহিত্য, সংগীত ও সৃষ্টিশীলতার প্রতি গভীর অনুরাগ তাঁকে পরবর্তী সময়ে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম উজ্জ্বল ব্যক্তিত্বে পরিণত করে।
নজরুলের সক্রিয় সৃষ্টিশীল জীবন ছিল প্রায় ২৩ বছরের। এই স্বল্প সময়ে তিনি কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটকসহ সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় অসংখ্য কালজয়ী সৃষ্টি রেখে গেছেন। তাঁর লেখায় একদিকে যেমন অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ উঠে এসেছে, অন্যদিকে প্রেম, মানবিকতা ও অসাম্প্রদায়িকতার গভীর বার্তাও প্রকাশ পেয়েছে।
নজরুলের বিদ্রোহী চেতনা তাঁকে ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে বিশেষ পরিচিতি এনে দেয়। তাঁর সাহিত্য মানুষের অধিকার, স্বাধীনতা ও সাম্যের আকাঙ্ক্ষাকে শক্তিশালী করেছে। একই সঙ্গে প্রেম ও বিরহের অনুভূতিকে তিনি দিয়েছেন অনন্য ভাষা। তাঁর রচিত অসংখ্য গান বাংলা সংগীতের ভাণ্ডারকে করেছে সমৃদ্ধ।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবি নজরুলকে সপরিবারে বাংলাদেশে আনা হয়। পরে তাঁকে বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়। রাষ্ট্রীয়ভাবে তাঁর বসবাসের ব্যবস্থা করা হয় রাজধানীর ধানমন্ডিতে।
১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টর অব লিটারেচার উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব লাভ করেন এবং একই বছর একুশে পদকে সম্মানিত হন।
কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। আলোচনা সভা, কবিতা পাঠ, সংগীতানুষ্ঠান, দোয়া ও স্মরণসভাসহ বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হবে জাতীয় কবিকে।
নজরুল আজ শুধু একটি নাম নন; তিনি বাঙালির প্রতিবাদ, মানবতা, সাম্য ও ভালোবাসার চিরন্তন প্রতীক। তাঁর সৃষ্টির শক্তি প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে এবং মানবিক সমাজ গড়ার অনুপ্রেরণা দিয়ে চলেছে।



