প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২৬, ০৬:১৭ পিএম
রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন সংস্থা বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) আয় ও ব্যয়ের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান দেখা গেছে চলতি অর্থবছরের প্রথম এগারো মাসে। সংসদে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি করসহ মোট আয় করেছে মাত্র আট কোটি টাকার কিছু বেশি, যেখানে একই সময়ে ব্যয় হয়েছে দুই শতাধিক কোটি টাকারও বেশি।
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এই আর্থিক চিত্র তুলে ধরেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী। নওগাঁ–৩ আসনের সংসদ সদস্যের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বিটিভির আয়–ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন। সংসদে জানানো হয়, চলতি অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত বিটিভির মোট আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় আট কোটি পাঁচ লাখ টাকার বেশি, আর ব্যয় হয়েছে প্রায় দুই শত চুয়ান্ন কোটি টাকারও বেশি।
আয়ের বড় অংশ এসেছে বিজ্ঞাপন খাত থেকে, যদিও সেটিও মোট আয়ের একটি সীমিত অংশ। সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিগত কয়েক বছরে বিটিভির আয় কিছুটা ওঠানামা করলেও ব্যয়ের পরিমাণ সব সময়ই আয়ের তুলনায় বহুগুণ বেশি ছিল।
২০২০ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত বিভিন্ন অর্থবছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রতিটি বছরেই আয় ও ব্যয়ের মধ্যে বড় ফারাক বজায় রয়েছে। কোথাও আয় কিছুটা বাড়লেও ব্যয়ের পরিমাণ অনেক বেশি হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ সময় ধরে আর্থিক ঘাটতির মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের এমন আর্থিক চিত্র শুধু বাজেট ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জই নয়, বরং টেকসই অর্থনৈতিক পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তাকেও সামনে নিয়ে আসে। আয় বৃদ্ধির নতুন খাত তৈরি এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণের কার্যকর উদ্যোগ না নিলে এই ঘাটতি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সরকারি পর্যায়ে বিটিভির কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের কথা বলা হলেও আয়ের তুলনায় ব্যয়ের এই বড় ব্যবধান প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।



