প্রকাশিত: জুন ২৩, ২০২৬, ০১:৩২ পিএম
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ সামনে এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর চলমান চীন সফরকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কৌশলগত সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে চীন থেকে উন্নত প্রযুক্তির বহুমুখী যুদ্ধবিমান সংগ্রহের বিষয়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। চলতি বছরের মধ্যেই এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক সমঝোতা সম্পন্ন হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে এ বিষয়ে ধারাবাহিক আলোচনা চলছে।
একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও উচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সফর চলাকালে প্রায় এক ডজনের বেশি সহযোগিতা দলিল স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ নদী ব্যবস্থাপনা ও পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যৌথ সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। এছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দরকে আধুনিক ও কার্যকর করে তুলতে চীনের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়েও ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।
সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে নতুন শিল্পকারখানা গড়ে তোলা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। এ লক্ষ্যে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং উৎপাদনমুখী শিল্প খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ নীতি অনুসরণ করছে। বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করা হচ্ছে। চীনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গেও সক্রিয় যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিং সফর শুধু একটি দ্বিপক্ষীয় সফর নয়; এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সফর শেষে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় অর্থনীতি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রাকে আরও গতিশীল করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।



