প্রকাশিত: জুন ২৪, ২০২৬, ০৮:৫৭ এএম
দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে আমদানি ও রপ্তানির ভারসাম্যহীনতা। সদ্য সমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তথ্য অনুযায়ী বিশ্বের ৫৮টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি রয়েছে চীন ও ভারতের সঙ্গে। জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত এক লিখিত উত্তরে এ তথ্য জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।
তিনি জানান, দেশের শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উৎপাদন খাতের প্রয়োজন মেটাতে বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি ও জ্বালানি আমদানি করতে হচ্ছে। ফলে অনেক দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক লেনদেনে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হচ্ছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এককভাবে সবচেয়ে বড় বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে চীনের সঙ্গে। গত অর্থবছরে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। চীন থেকে শিল্পকারখানার যন্ত্রপাতি, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, কাঁচামাল ও বিভিন্ন উৎপাদন উপকরণ ব্যাপকভাবে আমদানি করা হলেও সেখানে বাংলাদেশের রপ্তানি তুলনামূলকভাবে অনেক কম।
তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে প্রতিবেশী ভারত। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৭ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তুলা, খাদ্যপণ্য, রাসায়নিক দ্রব্য ও ভোগ্যপণ্যের উচ্চ আমদানির কারণে এই ব্যবধান তৈরি হয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশের সঙ্গেও উল্লেখযোগ্য ঘাটতি দেখা গেছে। ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে বাণিজ্যে বাংলাদেশ আমদানির দিক থেকে অনেক বেশি নির্ভরশীল। একইভাবে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সমৃদ্ধ দেশ কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানের সঙ্গেও বড় অঙ্কের বাণিজ্য ঘাটতি রেকর্ড হয়েছে।
এছাড়া পূর্ব এশিয়ার উন্নত অর্থনীতির দেশগুলো, দক্ষিণ এশিয়ার কিছু রাষ্ট্র, ইউরোপ ও ইউরেশিয়া অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ এবং দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সঙ্গেও বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি উল্লেখযোগ্য মাত্রায় রয়েছে। আফ্রিকা ও ওশেনিয়া অঞ্চলের কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ, নতুন বাজার সম্প্রসারণ এবং দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই ঘাটতি ধীরে ধীরে কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে উচ্চমূল্য সংযোজন পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিতে গুরুত্ব বাড়ালে বৈদেশিক বাণিজ্যের ভারসাম্য উন্নত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিল্প উন্নয়নের স্বার্থে আমদানি প্রয়োজন হলেও দীর্ঘমেয়াদে রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি না পেলে বাণিজ্য ঘাটতি অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই উৎপাদন, বিনিয়োগ ও রপ্তানিমুখী নীতিকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন।



