প্রকাশিত: জুন ২৬, ২০২৬, ১২:০১ পিএম
আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো কার্যকর করার লক্ষ্যে সরকারের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এ ঘোষণাকে ঘিরে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে অবসর-পূর্ব প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে থাকা কর্মকর্তাদের জন্য ইতিবাচক খবর এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
জানা গেছে, বর্তমানে যারা অবসর-পূর্ব প্রস্তুতিমূলক ছুটি ভোগ করছেন, তাদেরও নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দীর্ঘদিন ধরে এ সুবিধার অপেক্ষায় থাকা অনেক কর্মকর্তা আর্থিকভাবে উপকৃত হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যদিও আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে, তবে প্রশাসনিক ও কারিগরি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। এ কারণে সংশোধিত বেতনের আর্থিক সুবিধা বাস্তবে হাতে পেতে সরকারি চাকরিজীবীদের আরও কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামোয় মূল বেতন কত শতাংশ বৃদ্ধি পাবে, সে বিষয়ে এখনো সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেয়নি। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কয়েকটি বিকল্প প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। একটি প্রস্তাবে সব স্তরের চাকরিজীবীর মূল বেতন সমান হারে বৃদ্ধির বিষয়টি রয়েছে। অন্য একটি প্রস্তাবে উচ্চ ও নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন হারে বেতন বৃদ্ধির চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। এছাড়া নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় তাদের জন্য তুলনামূলক বেশি বেতন বৃদ্ধির একটি প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার একটি ভারসাম্যপূর্ণ বেতন কাঠামো প্রণয়নের চেষ্টা করছে। এর মাধ্যমে সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে উৎসাহ, দক্ষতা ও সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যও সামনে রাখা হয়েছে।
তবে বেতন বৃদ্ধি, শতকরা হার এবং বাস্তবায়নের বিস্তারিত বিষয়ে সরকারিভাবে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত এসব বিষয় চূড়ান্ত বলে গণ্য করা যাবে না। সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি এখন সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে।



