প্রকাশিত: আগস্ট ১৭, ২০২৬, ০৬:১১ পিএম
সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি তাদের সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। কমিটির সদস্যরা চূড়ান্ত প্রতিবেদনে স্বাক্ষরও করেছেন।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন গ্রেডে মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডে থাকা কর্মচারীদের তুলনামূলক বেশি সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে বর্তমান মূল বেতনের তুলনায় সর্বোচ্চ দ্বিগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে।
সুপারিশ অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো একবারে পুরোপুরি কার্যকর না করে দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। প্রথম ধাপে বাড়ানো মূল বেতন কার্যকর করার প্রস্তাব রয়েছে। পরবর্তী ধাপে নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।
নতুন কাঠামোয় ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে উচ্চ গ্রেডের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব থাকলেও বৃদ্ধির হার নিম্ন গ্রেডের তুলনায় কিছুটা কম রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের ব্যবধান কিছুটা কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের বিপুল অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে। এ কারণে আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটেও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও নিয়মিত ভাতার জন্য বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
এর আগে সচিব কমিটি একাধিক বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামোর বাস্তবায়ন পদ্ধতি, আর্থিক ব্যয়, বিভিন্ন ভাতা এবং প্রশাসনিক জটিলতা নিয়ে আলোচনা করেছে। জুন ও জুলাইয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনায় দুই ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছিল।
এখন চূড়ান্ত সুপারিশের পর সরকারের পরবর্তী অনুমোদন ও প্রজ্ঞাপনের অপেক্ষায় রয়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। সব প্রক্রিয়া শেষ হলে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।
দীর্ঘদিন পর নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডের সরকারি কর্মচারীরা আর্থিকভাবে বড় ধরনের সুবিধা পাবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



