প্রকাশিত: জুন ২৭, ২০২৬, ০৮:৪৮ এএম
দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে আগামী কয়েক বছরে রাজস্ব আহরণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। মধ্যমেয়াদি অর্থনৈতিক নীতি বিশ্লেষণে জানানো হয়েছে, ধাপে ধাপে রাজস্ব ও মোট দেশজ উৎপাদনের অনুপাত বাড়িয়ে ২০২৮-২৯ অর্থবছরের মধ্যে ১০ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনকে দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রকাশিত অর্থনৈতিক পর্যালোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে, উন্নয়ন ব্যয় নির্বিঘ্নভাবে পরিচালনার জন্য অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে রাজস্ব সংগ্রহের সক্ষমতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে বাংলাদেশের রাজস্ব আহরণের হার সমপর্যায়ের অনেক দেশের তুলনায় এখনও কম। ফলে সরকারি ব্যয় নির্বাহ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণে রাজস্ব বৃদ্ধির বিকল্প নেই।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মোট রাজস্ব দেশের মোট উৎপাদনের ৮ দশমিক ৩ শতাংশ ছিল। তবে সদ্য সমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা সামান্য কমে ৮ শতাংশে নেমে আসে। এই হ্রাসের পেছনে একাধিক কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কর আদায় ব্যবস্থার কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কর ছাড়ের ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবে আমদানিনির্ভর রাজস্ব কমে যাওয়া।
তবে সরকার মনে করছে, চলমান সংস্কার কার্যক্রমের সুফল আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই দৃশ্যমান হবে। প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব ও মোট দেশজ উৎপাদনের অনুপাত ১০ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছাবে। পরবর্তী অর্থবছরে তা বেড়ে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ১০ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
একই সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আওতাধীন কর আহরণেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা করা হয়েছে। বর্তমানে মোট দেশজ উৎপাদনের ৬ দশমিক ৭ শতাংশ সমপরিমাণ কর আদায় হলেও আগামী কয়েক বছরে তা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ৯ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে। অন্যদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বাইরে থাকা কর রাজস্ব মোট দেশজ উৎপাদনের শূন্য দশমিক ৩ থেকে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় কর ও মোট দেশজ উৎপাদনের অনুপাত আরও বাড়ানোর লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী, মধ্যমেয়াদে এই হার ১০ শতাংশে এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ উদ্দেশ্যে প্রযুক্তিনির্ভর, স্বচ্ছ, ন্যায্য এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে এমন একটি আধুনিক রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, উৎপাদন সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে কর ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও কার্যকর করা হবে। একই সঙ্গে করদাতাদের আস্থা বৃদ্ধি, সেবার মান উন্নয়ন এবং রাজস্ব প্রশাসনের আধুনিকায়নের মাধ্যমে কর আহরণ আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মধ্যমেয়াদি অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বাজারে মূল্যস্থিতি বজায় রাখা এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে উপযুক্ত আর্থিক নীতি অনুসরণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা জরুরি। এছাড়া রাজস্ব আয়ের সামগ্রিক হিসাবের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অনুদানকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।



