রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিদেশে চিকিৎসা খরচে আলোচনায় সাবেক উপদেষ্টার ব্যয়

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ২৮, ২০২৬, ১১:০০ এএম

বিদেশে চিকিৎসা খরচে আলোচনায় সাবেক উপদেষ্টার ব্যয়

ফাইল ছবি

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন বিদেশে চিকিৎসার জন্য সরকারি কোষাগার থেকে প্রায় ৮২ লাখ টাকা গ্রহণ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। মাত্র আঠারো মাসের ব্যবধানে এই ব্যয়ের পরিমাণ সরকারি পর্যায়ে বিদেশে চিকিৎসা বাবদ সর্বোচ্চ ব্যয়ের তালিকায় উঠে এসেছে। বিষয়টি সামনে আসার পর সরকারি অর্থে বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা, ব্যয়ের যৌক্তিকতা এবং বিদ্যমান নীতিমালা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, হৃদরোগের জটিলতার কারণে তিনি থাইল্যান্ডে চিকিৎসা নেন। তার দাবি, দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন যে তার প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা দেশে নেই এবং ঝুঁকিও তুলনামূলক বেশি। সেই পরামর্শের ভিত্তিতেই সরকারি অনুমোদন নিয়ে তিনি বিদেশে চিকিৎসা করাতে যান। চিকিৎসার বিভিন্ন ধাপে তার সঙ্গে চিকিৎসক এবং পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন বলে জানা যায়।

আ ফ ম খালিদ হোসেন জানিয়েছেন, চিকিৎসার পরও তিনি পুরোপুরি সুস্থ নন। তবে চিকিৎসা ব্যয় অত্যন্ত বেশি হওয়ায় বর্তমানে বিদেশে গিয়ে নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। একই সঙ্গে তিনি দেশের স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরে বলেন, উন্নত চিকিৎসা দেশে নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষ কিংবা দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিদেশমুখী হতে হতো না।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিদেশে চিকিৎসার জন্য সরকারি অর্থ গ্রহণকারীদের তালিকায় সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন। এছাড়া আরও কয়েকজন সাবেক উপদেষ্টা চিকিৎসা ব্যয় বাবদ সরকারি অর্থ গ্রহণ করেছেন।

এদিকে সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি অসুস্থ হলে নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী সরকার চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে পারে। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে যথাযথ চিকিৎসা নথি, বিল, ভাউচার এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন থাকা বাধ্যতামূলক। এসব নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলেও মত দিয়েছেন তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই বিদেশে চিকিৎসা ব্যয়ের সব নথি ও অনুমোদন প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে প্রয়োজন হলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে তুলে আনা উচিত। এতে সরকারি অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে জনমনে আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!