রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার উদ্যোগ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ২৮, ২০২৬, ১১:২৪ এএম

করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার উদ্যোগ

প্রতীকী ছবি

ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য স্বস্তির খবর আসতে যাচ্ছে। আগামী অর্থবছরে করমুক্ত আয়ের সীমা বর্তমান ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের করের চাপ কিছুটা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে যাদের বার্ষিক বেতনভিত্তিক আয় ৬ লাখ টাকার মধ্যে রয়েছে, তারা নির্ধারিত কর অব্যাহতির সুবিধা বিবেচনায় আয়কর দেওয়ার বাধ্যবাধকতার বাইরে থাকতে পারেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতির প্রভাব এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই করমুক্ত আয়ের সীমা আরও বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এর আগে চলতি অর্থবছরের বাজেটে এই সীমা সাড়ে তিন লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করা হয়েছিল। এবার আরও ২৫ হাজার টাকা বৃদ্ধি করে তা ৪ লাখ টাকায় উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তবে করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়লেও করদাতাদের সামগ্রিক করের বোঝা খুব বেশি কমবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, বিনিয়োগের ওপর কর রেয়াতের পরিমাণ কমানো, বিভিন্ন সঞ্চয়মাধ্যমের মুনাফার ওপর উৎসে কেটে নেওয়া করকে চূড়ান্ত কর হিসেবে গণ্য না করে অগ্রিম কর হিসেবে বিবেচনার প্রস্তাব এবং কর কাঠামোর কিছু পরিবর্তন করদাতাদের অতিরিক্ত করের মুখে ফেলতে পারে।

এছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে নিয়মিত কর পরিশোধের মাধ্যমে জমি বা আবাসনের প্রকৃত মূল্য প্রদর্শনের যে সুযোগ রাখা হয়েছিল, সেটিও বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর বাধ্যতামূলক রাখার বিধানও প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের জন্য ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে শেয়ারবাজার থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশের ওপর বিদ্যমান করহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীদের জন্য বর্তমান করব্যবস্থায় কোনো নতুন পরিবর্তন আসছে না।

কর বিশেষজ্ঞদের মতে, করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে একই সঙ্গে করহার, বিনিয়োগে কর রেয়াত এবং সঞ্চয়ভিত্তিক আয়ের ওপর আরোপিত নতুন বিধানগুলোর প্রভাবও বিবেচনায় নিতে হবে। অন্যথায় করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর সুফল অনেকাংশে কমে যেতে পারে।

সামগ্রিকভাবে সরকার একদিকে সাধারণ মানুষের করের চাপ কিছুটা লাঘব করার উদ্যোগ নিচ্ছে, অন্যদিকে করব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে একাধিক নীতিগত পরিবর্তনের দিকেও এগোচ্ছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!