প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম
দেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে একটি দক্ষ, দায়িত্বশীল ও পেশাদার কূটনৈতিক বাহিনী গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত বাস্তবতায় কূটনীতিকদের জ্ঞান, দক্ষতা এবং পেশাগত সক্ষমতা আরও সমৃদ্ধ করা সময়ের দাবি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর পররাষ্ট্র সেবা একাডেমিতে আয়োজিত পুনঃপ্রশিক্ষণ কোর্সের সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, দেশের পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার বিকল্প নেই। জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে প্রশিক্ষিত কূটনীতিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, সীমান্তবর্তী নদীর পানিবণ্টন, অভিবাসন, মুক্ত বাণিজ্য, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে কূটনীতিকদের আরও কার্যকর ও দক্ষ হয়ে উঠতে হবে। এসব ইস্যুতে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরতে প্রয়োজন বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান, দূরদর্শিতা এবং কৌশলগত সক্ষমতা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় মধ্য পর্যায়ের কূটনীতিকদের দক্ষতা উন্নয়নে নিয়মিত প্রশিক্ষণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এ ধরনের উদ্যোগ তাদের পেশাগত সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতের জটিল কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করে।
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র সেবা একাডেমির প্রধান বলেন, একজন আধুনিক কূটনীতিককে বিশ্লেষণধর্মী, নৈতিক, ধৈর্যশীল এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। তিনি ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কূটনীতিক তৈরিতে একাডেমির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
এ বছরের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ১৩ জন কর্মকর্তা সফলভাবে কোর্স সম্পন্ন করেন। পরে তাদের হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম দেশের কূটনৈতিক সক্ষমতা আরও সুদৃঢ় করবে এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



