রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাংলাদেশে উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদের কোনো স্থান নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১, ২০২৬, ১১:৩৮ পিএম

বাংলাদেশে উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদের কোনো স্থান নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ফাইল ছবি

বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, দেশের মাটি কখনোই সন্ত্রাসী কিংবা উগ্রবাদী শক্তির আশ্রয়স্থল হতে পারে না। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষায় সরকার ‘শূন্য সহিষ্ণুতা’ নীতি অনুসরণ করছে এবং ভবিষ্যতেও এ অবস্থান অটুট থাকবে।

রাজধানীর গুলশানে সংঘটিত ভয়াবহ হোলি আর্টিজান হামলার দশম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণানুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি কূটনীতিক, সরকারি প্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক, ধর্মীয়, আদর্শিক কিংবা অন্য যেকোনো অজুহাতে সন্ত্রাসবাদকে বৈধতা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সব ধরনের উগ্রবাদী তৎপরতার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখেছে।

তিনি আরও বলেন, হোলি আর্টিজান হামলার সেই বিভীষিকাময় রাত বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গভীর বেদনাবিধুর অধ্যায় হয়ে রয়েছে। এক দশক পেরিয়ে গেলেও সেই ঘটনার ক্ষত এখনো জাতির স্মৃতিতে অম্লান। নিরীহ মানুষের ওপর চালানো সেই নৃশংস হামলা ছিল মানবতা, সহনশীলতা এবং পারস্পরিক সম্প্রীতির বিরুদ্ধে এক নির্মম আঘাত।

অনুষ্ঠানে নিহতদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয় এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরাও এ সময় উপস্থিত থেকে নিহতদের প্রতি সম্মান জানান এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, সন্ত্রাসবাদ কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা জনগোষ্ঠীর সমস্যা নয়; এটি বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। তাই এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

হোলি আর্টিজান হামলার প্রসঙ্গ তুলে বক্তারা স্মরণ করেন, ২০১৬ সালের পয়লা জুলাই রাজধানীর গুলশানে এক ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় দেশি-বিদেশি বহু নিরীহ মানুষ প্রাণ হারান। পরদিন ভোরে পরিচালিত বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে জিম্মিদের উদ্ধার করা হলেও সেই ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক শোকাবহ স্মৃতি হয়ে আছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেই মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা জাতিকে আরও ঐক্যবদ্ধ করেছে। তিনি মনে করেন, উগ্রবাদ মোকাবিলায় শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা যথেষ্ট নয়; পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় নেতৃত্ব এবং সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সম্মিলিত সচেতনতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, জাতীয় ঐক্য, মানবিক মূল্যবোধ এবং পারস্পরিক সহমর্মিতা আরও শক্তিশালী হলে ভবিষ্যতে কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠী বাংলাদেশে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। একই সঙ্গে তারা নিহতদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে সন্ত্রাসমুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠারে প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!