প্রকাশিত: জুলাই ৪, ২০২৬, ০৩:৩১ পিএম
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ধর্মকে কেন্দ্র করে রাজনীতি করা একটি শক্তি আবারও নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করার চেষ্টা করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট দলটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চর্চায় বিশ্বাসী নয়; বরং তাদের মূল লক্ষ্য শরিয়াহভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।
শুক্রবার ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি আয়োজিত বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করা একটি রাজনৈতিক শক্তি এখন ধর্মপ্রাণ মানুষের আবেগকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক ভিত্তি বিস্তারের চেষ্টা করছে। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে প্রভাব বাড়ানোর নানা উদ্যোগও তারা গ্রহণ করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কৃতি উদার ও সহনশীল। এ দেশের মানুষ নিজ নিজ ধর্ম পালনে আন্তরিক হলেও উগ্রতা বা বিভাজনের রাজনীতিকে সমর্থন করে না। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে বসবাস করে আসছে। তাই বিভ্রান্তিকর প্রচারণার বিরুদ্ধে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সচেতন ও সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান তিনি।
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সনদে কোন কোন রাজনৈতিক দল সম্মতি দিয়েছে এবং কারা ভিন্নমত পোষণ করেছে, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। আগামী নির্বাচনে জনগণের রায়ে যে রাজনৈতিক দল সরকার গঠন করবে, তারা নিজেদের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সনদের বিষয়গুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে। বিএনপি এ বিষয়ে নিজের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে বলেও তিনি জানান।
এ সময় তিনি কয়েকটি ছোট রাজনৈতিক জোটের সমালোচনা করে দাবি করেন, জনসমর্থনের দিক থেকে তাদের অবস্থান দুর্বল। বিভিন্ন কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও সীমিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি দলীয় প্রতীক ব্যবহার করে নির্বাচন করবে না। তবে প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে একজন করে প্রার্থী নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। তাঁর মতে, একই এলাকায় একাধিক প্রার্থী হলে ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে, যা দলের সম্ভাব্য সাফল্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।



