রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিশ্বে সেনাবাহিনীর সুনাম আরও উজ্জ্বল করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ৫, ২০২৬, ১০:১১ এএম

বিশ্বে সেনাবাহিনীর সুনাম আরও উজ্জ্বল করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ফাইল ছবি

জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের নিজস্ব স্বার্থ ও অগ্রাধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেছেন, প্রতিরক্ষা কৌশল নির্ধারণে ‘বাংলাদেশ নীতি’কে সর্বাগ্রে স্থান দেওয়া হচ্ছে। এই নীতির যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও আধুনিক, কার্যকর এবং সময়োপযোগী হয়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রবিবার (৫ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সামরিক ও বেসামরিক বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, আমন্ত্রিত অতিথি এবং বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী সবসময় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছে। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ধরনও বদলেছে। তাই আধুনিক বিশ্বের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সশস্ত্র বাহিনীকে আরও দক্ষ, প্রযুক্তিনির্ভর এবং যুগোপযোগী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধু দেশের অভ্যন্তরেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা এবং দক্ষতার মাধ্যমে প্রশংসা অর্জন করেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও বাহিনীর সদস্যরা সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন। প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টও সেই গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।

রাষ্ট্রপতির ভাষায়, বর্তমান সময়ে নিরাপত্তা হুমকির ধরন আগের তুলনায় অনেক বেশি জটিল। প্রচলিত সামরিক চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি এখন তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আক্রমণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, তথ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা এবং অন্যান্য আধুনিক ঝুঁকি নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। এসব চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করতে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষ জনবল তৈরি এবং সময়োপযোগী কৌশল গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু আধুনিক অস্ত্র বা সরঞ্জামই যথেষ্ট নয়, বরং প্রয়োজন সুপরিকল্পিত কৌশল, প্রশিক্ষিত জনশক্তি এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সমন্বয়। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার ধারাবাহিকভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে যাচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি আরও আশা প্রকাশ করেন, দেশের সশস্ত্র বাহিনী ভবিষ্যতেও পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

অনুষ্ঠানের শেষে তিনি প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের সদস্যদের নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্বশীলতার প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও দেশের সেবা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় একই আন্তরিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!