রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

প্রকৃত অপরাধীদেরই বিচার হবে, রাজনৈতিক হয়রানি নয়: আইনমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ০৫:১১ পিএম

প্রকৃত অপরাধীদেরই বিচার হবে, রাজনৈতিক হয়রানি নয়: আইনমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক পক্ষকে হয়রানির সুযোগ রাখা হবে না বলে জানিয়েছে সরকার। বরং নিরপেক্ষ তদন্ত, আইনি প্রক্রিয়া এবং ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে কেবল প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান বিচার কার্যক্রমে আইনের শাসন এবং ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ করতে পলাতক আসামিদের পক্ষেও সরকারি ব্যয়ে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো অভিযুক্ত ন্যায্য বিচার থেকে বঞ্চিত না হন।

মন্ত্রী জানান, প্রচলিত বিচারবিধি অনুযায়ী বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় মোট ৪৪ জন আইনজীবীকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আসামিদের আইনগত সহায়তা দেওয়ার জন্য নিয়োগ করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপকে আইনের আওতায় সম্পন্ন করা এবং কোনো পক্ষ যেন বৈষম্যের অভিযোগ তুলতে না পারে।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে সংঘটিত গুম, হত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। এজন্য ট্রাইব্যুনালের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে এবং বিচার কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

আইনমন্ত্রী জানান, বিচারব্যবস্থাকে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে নতুন সংশোধিত আইন কার্যকর করা হয়েছে। এর আওতায় বিচার পর্যবেক্ষণের সুযোগ, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর শুনানি, ডিজিটাল সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ এবং সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পৃথক বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এতে বিচার কার্যক্রম আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ হবে বলে সরকারের প্রত্যাশা।

তিনি বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আইনজীবীর সঙ্গে স্বাধীনভাবে পরামর্শ করার অধিকারও নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি যারা বিচার এড়িয়ে পলাতক থাকার চেষ্টা করবেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগও রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে আদালত অভিযুক্ত ব্যক্তির সম্পদ জব্দ বা বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতাও প্রয়োগ করতে পারবে।

বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানি করার নীতিতে বিশ্বাস করে না। প্রতিটি মামলায় তথ্য-প্রমাণ, তদন্ত এবং আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করা এবং নির্দোষদের সুরক্ষা দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে বিচারব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের আস্থা আরও শক্তিশালী করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে আইনি সংস্কার ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!