প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করতে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাজ্য। পাশাপাশি শিক্ষা, বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের অংশীদারত্ব আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারা কুকের সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও বহুমাত্রিক করার বিষয়ে মত বিনিময় করেন।
বৈঠকের শুরুতে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, নারী উন্নয়ন এবং শিক্ষা খাতে সাম্প্রতিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে যুক্তরাজ্য আগ্রহী। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।
আলোচনায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনও গুরুত্ব পায়। এ সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জানান, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু করার লক্ষ্যে সরকার ও নির্বাচন কমিশন প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী একটি দেশ এবং বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো আরও সুসংহত হবে। একই সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করতে ব্রিটিশ বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, অবকাঠামো, স্থানীয় সরকার উন্নয়ন, পানি ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে বিদেশি অংশীদারত্ব দেশের টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বৈঠকে উচ্চশিক্ষা নিয়েও আলোচনা হয়। ব্রিটিশ হাইকমিশনার জানান, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে কাজ চলছে। দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেন।
একই দিনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সঙ্গে একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিদলও সাক্ষাৎ করে। সেখানে অবকাঠামো উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়। প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রমে ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করে।
সাক্ষাৎকালে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বৈঠক দুই দেশের কূটনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতার সম্পর্ককে আরও গভীর করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



