রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

চিকিৎসা ও গবেষণায় ঢাকা মেডিকেলের ভূমিকার প্রশংসা প্রধানমন্ত্রীর

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম

চিকিৎসা ও গবেষণায় ঢাকা মেডিকেলের ভূমিকার প্রশংসা প্রধানমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

দেশের চিকিৎসা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং গবেষণায় ঢাকা মেডিকেলে কলেজের দীর্ঘদিনের অবদানকে জাতির জন্য গৌরবের বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একটি দেশের প্রকৃত উন্নয়ন কেবল অর্থনৈতিক অগ্রগতির মাধ্যমে পরিমাপ করা যায় না; বরং সুস্থ, দক্ষ, মানবিক এবং জ্ঞানসমৃদ্ধ জনগোষ্ঠী গড়ে তোলাই টেকসই উন্নয়নের মূল ভিত্তি। আর সেই লক্ষ্য অর্জনে মানসম্মত চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা এবং আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার বিকল্প নেই।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ৮০ বছর পূর্তি এবং ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক শুভেচ্ছা বার্তায় প্রধানমন্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৪৬ সালের ১০ জুলাই যাত্রা শুরু করা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ দীর্ঘ আট দশকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠান থেকে গড়ে ওঠা অসংখ্য চিকিৎসক দেশ-বিদেশে দক্ষতা, মানবিকতা এবং পেশাগত সাফল্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের মর্যাদা উজ্জ্বল করেছেন। তাদের অবদান দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য স্বাস্থ্য খাতকে আরও আধুনিক ও গবেষণানির্ভর করে তোলা। এজন্য চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা, দক্ষ জনবল তৈরি এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং গবেষণার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, ছাত্র-জনতার গণআন্দোলন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং বিভিন্ন জনস্বাস্থ্য সংকটে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকদের সাহসী ও মানবিক ভূমিকা জাতি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে। সংকটের প্রতিটি মুহূর্তে প্রতিষ্ঠানটির সদস্যরা মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে দায়িত্বশীলতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে চিকিৎসাবিজ্ঞান দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। নতুন প্রযুক্তি, গবেষণাভিত্তিক জ্ঞান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার স্বাস্থ্য খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে। এসব পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ আগামী দিনেও বিশ্বমানের চিকিৎসক, গবেষক এবং স্বাস্থ্য নেতৃত্ব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ৮০ বছরের ঐতিহ্য এবং ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রেরণা ধারণ করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ভবিষ্যতেও চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা, মানবিক সেবা এবং জ্ঞানচর্চায় নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। একই সঙ্গে তিনি দেশ-বিদেশে কর্মরত এই প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকদের নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে আরও সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!