প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২৬, ০৮:১২ পিএম
দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানে বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই এখন খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত। ফলে দেশের আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং ব্যাংকিং শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের হার নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে। এরপরই রয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পরে অবস্থান করছে চাদ এবং গিনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ঋণ আদায়ে দুর্বলতা, তদারকির ঘাটতি এবং অনিয়মের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সাম্প্রতিক এক বৈঠকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ কমানোর উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা খেলাপি ঋণ হ্রাসে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বৈঠকে ব্যাংক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ কয়েক দশ হাজার কোটি টাকা বেড়ে মোট পরিমাণ প্রায় পাঁচ লাখ ঊননব্বই হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান সবচেয়ে উদ্বেগজনক। প্রতিবেশী দেশগুলোর ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার তুলনামূলকভাবে অনেক কম। ফলে আঞ্চলিক তুলনায় বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক প্রভাব, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া ঋণ বিতরণ, ঋণ পুনরুদ্ধারে দুর্বলতা, নিয়ন্ত্রক সংস্থার সীমাবদ্ধতা এবং আইনের কার্যকর প্রয়োগের ঘাটতি খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির প্রধান কারণ। তারা মনে করেন, ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিত, জবাবদিহি বৃদ্ধি এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে আর্থিক খাত আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।



