প্রকাশিত: জুলাই ১৪, ২০২৬, ০১:৫০ পিএম
পরিবেশ দূষণ কমানো এবং জ্বালানিনির্ভর যানবাহনের ব্যবহার কমাতে দেশের সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক পরিবহনে ব্যবহৃত মোট যানবাহনের অন্তত ৩০ শতাংশকে বৈদ্যুতিক মোটরযানে রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
জাতীয় সংসদে এক জরুরি জনস্বার্থসম্পর্কিত আলোচনার জবাবে সোমবার এ তথ্য জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, বায়ুদূষণ কমানো এবং পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, যানবাহন থেকে নির্গত বিভিন্ন ক্ষতিকর গ্যাস, বিশেষ করে কার্বন ডাই-অক্সাইড, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর যানবাহনের পরিবর্তে বৈদ্যুতিক যান ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক জলবায়ু প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে পরিবহন খাত থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য নিয়েছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় বৈদ্যুতিক যান চালু ও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
শেখ রবিউল আলম আরও জানান, বৈদ্যুতিক মোটরযানের নিবন্ধন, পরিচালনা এবং চলাচলসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করতে নতুন বৈদ্যুতিক বাস আমদানিতে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য বৈদ্যুতিক বাস আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে নির্ধারিত হারে শুল্ক সুবিধার বিষয়টি অনুমোদন করা হয়েছে।
সংসদে সেতুর টোল কমানো বা প্রত্যাহারের বিষয়ে উত্থাপিত দাবির জবাবে মন্ত্রী বলেন, সেতুর টোল আদায় একটি রাজস্বসংক্রান্ত বিষয়। তাই শুধু যোগাযোগ বিভাগের সিদ্ধান্তে কোনো সেতুর টোল বাতিল করা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের সঙ্গে আলোচনা ও নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ছোট সেতুর ক্ষেত্রে বিশেষ পরিস্থিতিতে টোল কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে ব্যক্তিগত সুপারিশের ভিত্তিতে টোল আদায় বন্ধ করার সুযোগ নেই।
এ ছাড়া আন্তঃনগর ট্রেনের বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রাবিরতির দাবি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ নির্ধারণ করা হয়। সব স্টেশনে ট্রেন থামানো হলে এর মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে।



