রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

টানা বর্ষণে চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর বিস্তার, দৈনিক ১২ জন ভর্তি হাসপাতালে

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১৪, ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম

টানা বর্ষণে চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর বিস্তার, দৈনিক ১২ জন ভর্তি হাসপাতালে

ছবি: সংগৃহীত

টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে চট্টগ্রামে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। নগরের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে থাকায় এডিস মশার বিস্তারের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে চলতি মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে এবং প্রতিদিনই নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামে কয়েক শতাধিক মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর উল্লেখযোগ্য অংশ শনাক্ত হয়েছে জুলাই মাসের প্রথম দুই সপ্তাহেই। প্রতিদিন গড়ে এক ডজনেরও বেশি রোগী চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। ইতোমধ্যে ডেঙ্গুজনিত মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে, যা জনমনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার দ্রুত ঘটে। চলমান বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি উচ্চ তাপমাত্রাও মশার বিস্তারে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। এ কারণে আগামী কয়েক সপ্তাহে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক এক জরিপে নগরের বহু আবাসিক এলাকায় এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। কয়েকটি ওয়ার্ডকে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে সংক্রমণের হার তুলনামূলক বেশি। এসব এলাকার বাসিন্দাদের বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, বর্তমানে ডেঙ্গুর উপসর্গ আগের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন ধরনের দেখা যাচ্ছে। অনেক রোগীর ক্ষেত্রে উচ্চ জ্বরের পরিবর্তে অতিরিক্ত দুর্বলতা, বমি, পেটব্যথা, পাতলা পায়খানা এবং রক্তচাপ কমে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে জ্বর কমে যাওয়ার পরবর্তী কয়েক দিন রোগীর জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন হাসপাতালে পৃথক ডেঙ্গু চিকিৎসা ইউনিট চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি রোগীদের জন্য অতিরিক্ত শয্যার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু চিকিৎসা ব্যবস্থা নয়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাসাবাড়ি ও আশপাশে কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে বর্ষার বাকি সময়জুড়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিতে পারে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!