প্রকাশিত: জুলাই ১৫, ২০২৬, ০৫:০২ পিএম
দেশে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন, যৌন সহিংসতা এবং পারিবারিক সহিংসতার ঘটনায় বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছরের প্রথমার্ধে ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন, পারিবারিক সহিংসতা, যৌতুকজনিত নির্যাতন এবং শিশু নির্যাতনের ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সহিংসতার সংখ্যা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা গুরুতর শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, অসংখ্য নারী ও শিশু বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ প্রাণ হারিয়েছেন, কেউ গুরুতর আহত হয়েছেন, আবার কেউ মানসিক আঘাত নিয়ে বেঁচে আছেন। পারিবারিক সহিংসতা ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক পরিবার ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
মানবাধিকারকর্মীরা মনে করছেন, আইন প্রয়োগের দুর্বলতা, বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং সামাজিক সচেতনতার অভাব এ ধরনের ঘটনার অন্যতম কারণ। তারা বলছেন, শুধু আইন প্রণয়ন নয়, কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ জোরদার করা প্রয়োজন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনাও আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক শিশু শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যা তাদের স্বাভাবিক বিকাশের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ নাগরিকদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি দ্রুত বিচার, ভুক্তভোগীদের সহায়তা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ কমিয়ে আনা সম্ভব।
তারা সতর্ক করে বলেছেন, এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে মানবিক ও সামাজিক সংকট আরও গভীর হতে পারে।



