প্রকাশিত: জুলাই ১৬, ২০২৬, ০৭:১৬ এএম
দীর্ঘ বিরতির পর আবারও চালু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে সরাসরি আকাশপথ। আগামী ২৭ জুলাই থেকে ঢাকা-নারিতা-ঢাকা রুটে পুনরায় যাত্রী পরিবহন শুরু করবে রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়েই এই রুটে নিয়মিত যাত্রা শুরু হবে।
প্রথম পর্যায়ে সপ্তাহে একটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। যাত্রীদের চাহিদা বৃদ্ধি এবং উড়োজাহাজের প্রাপ্যতা বিবেচনায় পরবর্তী সময়ে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। এই রুটে আধুনিক যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হবে, যাতে ভ্রমণ আরও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই এই সেবা চালুর পরিকল্পনা থাকলেও নিরাপত্তাসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক অনুমোদন সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগায় উদ্বোধনের তারিখ পিছিয়ে যায়। সব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় এখন আর কোনো বাধা নেই।
সরকারের মতে, জাপানে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, কর্মজীবী ও প্রবাসীদের জন্য এই সরাসরি যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, পর্যটন ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভবিষ্যতে এই রুটকে কেন্দ্র করে আরও বিস্তৃত আন্তর্জাতিক সংযোগ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে যাত্রীরা একটি টিকিট ব্যবহার করেই জাপান হয়ে উত্তর আমেরিকাসহ বিভিন্ন গন্তব্যে সহজে যাতায়াতের সুযোগ পেতে পারেন। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক কয়েকটি বিমান সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের কাজও এগিয়ে চলছে।
রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, যাত্রীদের আগ্রহ ইতোমধ্যেই আশাব্যঞ্জক। উদ্বোধনী ফ্লাইটের অধিকাংশ আসন আগাম সংরক্ষণ করা হয়েছে। বিশেষ করে জাপান থেকে বাংলাদেশে ফেরার যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই রুট পুনরায় চালু হওয়ার ফলে শুধু যাত্রী পরিবহনই নয়, দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থাও নতুন গতি পাবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে পূর্ব এশিয়া ও উত্তর আমেরিকামুখী ভ্রমণকারীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগপথ হিসেবে ভূমিকা রাখবে।



