প্রকাশিত: জুলাই ১৬, ২০২৬, ১০:৫৩ এএম
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তির কার্যক্রম জোরদার করেছে নির্বাচন কমিশন। এ লক্ষ্যে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত নতুন ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সুযোগ রাখা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগ্য নাগরিকরা আবেদন করলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটার তালিকায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যেসব নাগরিকের বয়স ভোটার হওয়ার উপযুক্ত হয়েছে এবং যারা এখনো ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হননি, তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। বিশেষ করে ২০০৮ সালের ৩১ জুলাই অথবা তার আগে জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তিরা এই সুযোগের আওতায় থাকবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন হলে তাদের নাম নতুন ভোটার তালিকায় সংযোজন করা হবে।
একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্র সংক্রান্ত কার্যক্রমও এগিয়ে নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৯ আগস্ট প্রাথমিক ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। তালিকাটি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা এবং উপজেলা বা থানা নির্বাচন কার্যালয়ে প্রদর্শনের জন্য রাখা হবে, যাতে সাধারণ নাগরিকরা নিজেদের তথ্য যাচাই করতে পারেন।
যদি কোনো যোগ্য নাগরিকের নাম তালিকায় না থাকে অথবা নাম, ঠিকানা কিংবা অন্যান্য তথ্যের ক্ষেত্রে কোনো ভুল ধরা পড়ে, তাহলে ২৪ আগস্টের মধ্যে সংশোধনের আবেদন করার সুযোগ থাকবে। এসব আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করতে একটি নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রস্তুত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। এজন্য নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি তথ্য যাচাই ও সংশোধনের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের এক কমিশনার জানিয়েছেন, আগামী অক্টোবর মাসে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সে অনুযায়ী আগস্টের মাঝামাঝি অথবা শেষের দিকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। এ কারণে ভোটার তালিকা হালনাগাদের সব কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে দেশে মোট ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৪৩ জন। নির্বাচন কমিশনের আশা, নতুন নিবন্ধনের মাধ্যমে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অধিকসংখ্যক নাগরিক ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন।



