রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হয়েছে, চলবে সরকারি সহায়তা: অর্থমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১৭, ২০২৬, ১২:১৫ পিএম

পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হয়েছে, চলবে সরকারি সহায়তা: অর্থমন্ত্রী

ফাইল ছবি

চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক বন্যায় প্রায় সাত লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকার ইতোমধ্যে ব্যাপক ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের কাজও শুরু হয়েছে এবং এই কার্যক্রম সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত সরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

শুক্রবার চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন।

মন্ত্রী জানান, এখন পর্যন্ত প্রায় এক লাখ মানুষের কাছে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। দুর্গতদের জন্য চাল, রান্না করা খাবার, শুকনো খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। যেসব পরিবার এখনো পর্যাপ্ত সহায়তা পায়নি, তাদের কাছেও দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু জরুরি খাদ্য সহায়তা প্রদান নয়, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বাভাবিক জীবন দ্রুত ফিরিয়ে আনা। সে কারণে পুনর্বাসন কার্যক্রমও সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ঘরবাড়ি, জীবিকা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো পুনর্গঠনের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের স্থায়ীভাবে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, টানা বৃষ্টিপাত ও বন্যার কারণে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকার সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে মানুষের চলাচল এবং ত্রাণ পরিবহনে কিছুটা সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি স্থানে মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হলে ত্রাণ বিতরণ এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। পাশাপাশি কৃষি, শিক্ষা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্যও প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি শেষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী পতেঙ্গা থেকে চন্দনাইশের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পরে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও বাঁশখালীসহ চট্টগ্রামের আরও কয়েকটি বন্যাকবলিত এলাকায় গিয়ে দুর্গত মানুষের হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের পাশে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। জরুরি সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন নিশ্চিত করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!