রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সংবিধান নিয়ে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট করলেন মির্জা ফখরুল

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১৭, ২০২৬, ০২:১৬ পিএম

সংবিধান নিয়ে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট করলেন মির্জা ফখরুল

ছবি: সংগৃহীত

সংবিধান নিয়ে বিএনপির অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি সংবিধানের সংস্কার নয়, বরং সংশোধনের পক্ষে। এ বিষয়ে দলটির অবস্থান শুরু থেকেই স্পষ্ট এবং ধারাবাহিক বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই সনদে দেওয়া প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

শুক্রবার সকালে প্রয়াত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি জানান, জুলাই সনদে যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর প্রতিটি বাস্তবায়নে দল আন্তরিকভাবে কাজ করবে। জনগণের সঙ্গে করা অঙ্গীকার থেকে বিএনপি কোনোভাবেই সরে আসবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সংবিধান নিয়ে চলমান রাজনৈতিক আলোচনার প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির মহাসচিব বলেন, অনেকেই ইচ্ছাকৃতভাবে দলটির অবস্থান ভিন্নভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বিএনপি কখনোই সংবিধানের সংস্কারের দাবি তোলেনি। দলটি বরাবরই প্রয়োজনীয় সংশোধনের মাধ্যমে সংবিধানকে আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী করার কথা বলে আসছে।

তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনকে কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই আন্দোলন ছিল দীর্ঘদিন ধরে চলা স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামের ধারাবাহিক পরিণতি। তাই এর মূল চেতনা ও লক্ষ্যকে ধরে রেখে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, বিরোধী রাজনৈতিক অঙ্গনের কিছু ব্যক্তি নানা ধরনের বক্তব্য দিয়ে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। তবে বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দায়িত্বশীল রাজনীতির মাধ্যমে এগিয়ে যেতে চায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, আইনের শাসন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্য সব পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় স্বার্থে সবাইকে সংলাপ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের পরিবেশ বজায় রাখতে হবে।

স্মরণসভায় উপস্থিত নেতারা অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদের শিক্ষা, গবেষণা এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তাঁরা বলেন, তাঁর আদর্শ ও চিন্তাধারা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!