প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬, ১১:৪৮ এএম
সংবিধান সংস্কারকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সরকার সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করলেও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সেই উদ্যোগকে যথেষ্ট নয় বলে দাবি করেছে। তাদের অভিযোগ, সীমিত সংশোধনের পরিবর্তে গণভোটে জনগণের দেওয়া রায়ের ভিত্তিতে সংবিধানের মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন। এ দাবিকে সামনে রেখে জাতীয় নাগরিক পার্টি আন্দোলনের প্রস্তুতি আরও জোরদার করছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
বিরোধী নেতাদের ভাষ্য, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কেবল কয়েকটি ধারা পরিবর্তন যথেষ্ট হবে না। রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো, ক্ষমতার ভারসাম্য, জবাবদিহি এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। তাদের মতে, জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটাতে হলে একটি পূর্ণাঙ্গ সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে সেই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া উচিত।
সরকার সম্প্রতি সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। তবে বিরোধী দলগুলো শুরু থেকেই এ কমিটির কার্যক্রমে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে এসেছে। তাদের দাবি, এই কমিটি জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবে না এবং এটি সংবিধান সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত।
জাতীয় নাগরিক পার্টির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, দলীয় পর্যায়ে ধারাবাহিক বৈঠকে ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান অগ্রগতি না এলে খুব শিগগিরই রাজপথে ধারাবাহিক আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ এবং আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের নিয়ে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
বিরোধী নেতারা আরও বলেন, সংবিধান সংস্কার প্রশ্নে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়ন না হলে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। তাদের মতে, সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে সীমিত সংশোধনের পরিবর্তে একটি স্বতন্ত্র ও প্রতিনিধিত্বশীল কাঠামোর মাধ্যমে সংস্কার প্রক্রিয়া পরিচালনা করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, সরকারপক্ষের অবস্থান হলো—সংবিধান সংশোধনের সাংবিধানিক ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে। এ লক্ষ্যে গঠিত বিশেষ কমিটি বিভিন্ন পক্ষের মতামত গ্রহণ করে সুপারিশ তৈরি করবে। সরকার মনে করছে, সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই টেকসই ও গ্রহণযোগ্য সংস্কার সম্ভব।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংবিধান সংস্কার ইস্যু আগামী দিনে দেশের রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠতে পারে। সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে এ বিষয়ে সমঝোতা না হলে রাজনৈতিক কর্মসূচি আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান বের করতে পারলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সহজ হবে বলেও মনে করছেন তারা।
এদিকে সংবিধান সংস্কার নিয়ে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবস্থান ভিন্ন হওয়ায় আগামী দিনগুলোতে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, আলোচনার পথ খোলা রেখে জনগণের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিলে এ সংকটের গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করা সম্ভব।



