প্রকাশিত: জুলাই ১৮, ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বর্তমানে অত্যন্ত সুদৃঢ় অবস্থানে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তিনি বলেছেন, দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং উন্নয়নমূলক অংশীদারত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও শক্তিশালী হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এই সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করার বিষয়ে চীনের দৃঢ় আগ্রহ রয়েছে।
রাজধানীতে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ও সফর কৌশলগত অংশীদারত্বকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। উন্নয়ন, অবকাঠামো, বাণিজ্য, পানি ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত তিস্তা-কেন্দ্রিক বৃহৎ উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে চীন প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন, নদী ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বাণিজ্য প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, বাংলাদেশি কৃষিপণ্যের জন্য চীনের বাজারে নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে দেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল রপ্তানির পথ উন্মুক্ত হওয়ায় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা উল্লেখযোগ্যভাবে উপকৃত হবেন। এর আগে বাংলাদেশি আম চীনের ভোক্তাদের কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে বলেও তিনি জানান।
যোগাযোগ খাতের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আধুনিক রেলব্যবস্থা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। ভবিষ্যতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর মধ্যে দ্রুতগতির রেলসেবা চালুর সম্ভাবনাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে ইয়াও ওয়েন বলেন, বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর নিরাপদ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনের জন্য সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে যোগাযোগ সহজ করতে চীন গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে আগ্রহী।
তিনি আরও বলেন, পারস্পরিক সম্মান, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আগামী দিনগুলোতে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক হবে।



