প্রকাশিত: জুলাই ২০, ২০২৬, ১১:৫৪ এএম
বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের জন্ম দিলেন ফ্রান্সের তারকা আক্রমণভাগের খেলোয়াড় কিলিয়ান এমবাপ্পে। টানা দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতার স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে দুইবার এই সম্মান নিজের করে নেওয়ার বিরল কীর্তি গড়লেন তিনি।
পুরো প্রতিযোগিতাজুড়েই এমবাপ্পে ছিলেন প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য বড় আতঙ্ক। দ্রুত গতি, নিখুঁত আক্রমণ এবং গোল করার অসাধারণ দক্ষতায় তিনি একের পর এক ম্যাচে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছেন। প্রতিযোগিতার শেষ চার পর্যন্ত তার সঙ্গে সমান সংখ্যক গোল ছিল আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির। ফলে সর্বোচ্চ গোলদাতার লড়াই ছিল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ।
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে নিজের সামর্থ্যের পূর্ণ প্রকাশ ঘটান এমবাপ্পে। সেই ম্যাচে দুটি গোল করে তিনি মোট গোলসংখ্যা দশে উন্নীত করেন। অন্যদিকে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মেসি গোলের দেখা না পাওয়ায় এমবাপ্পের শীর্ষস্থান নিশ্চিত হয়ে যায়।
এর আগে ২০২২ সালের বিশ্বকাপেও তিনি সর্বোচ্চ গোলদাতার স্বীকৃতি অর্জন করেছিলেন। এবার আবারও একই কৃতিত্ব অর্জনের মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখলেন এই ফরাসি তারকা। ধারাবাহিকতা, ক্ষুরধার আক্রমণ এবং বড় ম্যাচে নিজেকে প্রমাণ করার ক্ষমতাই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
শুধু এবারের আসর নয়, বিশ্বকাপের বিভিন্ন আসর মিলিয়ে এমবাপ্পের মোট গোলসংখ্যা এখন বাইশ। এই অর্জনের মধ্য দিয়ে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার অবস্থান আরও শক্ত করেছেন। অল্প বয়সেই এমন রেকর্ড গড়ে তিনি ভবিষ্যতে আরও নতুন ইতিহাস রচনার ইঙ্গিত দিলেন।
এদিকে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে এক গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মর্যাদা অর্জন করেছে স্পেন। তবে দলীয় সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের বিচারে এবারের আসরের অন্যতম আলোচিত নাম হয়ে থাকলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। গোল করার অসাধারণ ক্ষমতা, ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং রেকর্ড ভাঙার এই যাত্রা তাকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকাদের কাতারে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।



